হামের টিকা অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। হামে আক্রান্ত শিশুদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও হাসপাতালে হাম কর্নার চালু এবং টিকা অবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিল ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানায় সংগঠনটি।
আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এ দাবি জানায় তারা। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ডের সভাপতিত্বে ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক জিন্নাত আরা সুমুর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন–বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ।
সৈকত আরিফ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বাণিজ্যচুক্তি সম্পাদন করেছে। আমরা এই চুক্তির একদম শুরুতেই দাবি করেছিলাম–এই চুক্তি সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করে তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি সরকার সে পথে হাঁটছে না। এমনকি বিরোধী দলও এই চুক্তি নিয়ে টু শব্দ করছে না। তাদের এই চুপ থাকার কারণ বাংলাদেশের জনগণ জানতে চায়। যদি এই চুক্তি সংসদে উত্থাপন করে বাংলাদেশের স্বার্থ ও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ধারাগুলো বাতিল করা না হয়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ এই চুক্তি বাস্তবায়ন হতে দেবে না। আমরা ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে এই অধীনতার চুক্তি বাতিলে দূরবার আন্দোলন গড়ে তুলব।’
সভাপতির বক্তব্যে মশিউর রহমান খান রিচার্ড বলেন, ‘হামে আক্রান্ত শিশুদের জীবন আজ গুরুতর ঝুঁকিতে। প্রতিদিন শিশুর মৃত্যু ঘটছে। এটি একটি জাতীয় জরুরি অবস্থা। এই সংকটের সময়ে শিশুদের জীবন রক্ষার মৌলিক দায়িত্ব উপেক্ষা করে ডাকসুর ছাত্র শিবির মনোনীত প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জিমনেসিয়াম মাঠ ব্যবহারে অসম্মতি প্রদান অমানবিক রাজনৈতিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দাবি করি, অবিলম্বে হাম সেন্টার স্থাপন, স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত সংস্কার এবং জরুরি চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার ঘোষণা করতে হবে। হামের টিকা অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে হবে।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন—কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরমানুল হক, ঢাকা মহানগরের সভাপতি আল-আমিন রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সজীব হোসেন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য সাইদুর রহমানসহ নেতা–কর্মীরা। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির পায়রা চত্বরে শেষ হয়।