নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে তাঁর আপিল মঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। এতে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশন আজ রোববার ৭১টি আপিলের শুনানি করে। এর মধ্যে ৫৮টি আপিল মঞ্জুর, সাতটি খারিজ ও ছয়টি পরে নিষ্পত্তির জন্য মুলতবি রাখা হয়েছে বলে জানান ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘মনোনয়ন বাতিলের পেছনে যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা শেষপর্যন্ত টেকেনি। আমি প্রথমেই আল্লাহর কাছে শোকর আদায় করছি। আমার বিশ্বাস ছিল, এই ষড়যন্ত্র টিকবে না।’
ব্যাংকঋণ-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে খেলাপি হওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি ভুয়া নোটিশ তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করি। পরে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা শাস্তিমূলকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ ও ট্রান্সফার হন। কিন্তু এই তথ্য মিডিয়ায় আসেনি।’
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করে মান্না বলেন, ‘কমিশন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিপক্ষকে বাদ দিয়েই বিজয় অর্জনের মানসিকতা গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আমার শঙ্কা রয়েছে।’
বিএনপির সমর্থন প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ‘এখনো তাদের মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। কিন্তু আমি আশা প্রকাশ করি, যেহেতু আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রত্যাহার করাই স্বাভাবিক নিয়ম হবে।’
ডাকসুর দুবারের ভিপি, আওয়ামী লীগের একসময়ের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে এর আগেও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু কখনো ভোটে জিতে সংসদে যাওয়া হয়নি তাঁর। এবার আসন সমঝোতায় তাঁকে বগুড়া-২ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই আসনের জন্য জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রটি বাছাইয়ে বাতিল করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইসিতে আপিল করেন।