জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বাহাত্তরের সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে আওয়ামী লীগের আদর্শ ও রাজনীতিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ রাখা হচ্ছে।
আজ রোববার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের সর্বশেষ সেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এ কনভেনশনের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্যানালিস্ট হিসেবে আলোচনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ। সেশনটি সঞ্চালনা করবেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।
সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করে নাহিদ বলেছেন, ‘প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার তা না করে নিজের মতো সংসদ পরিচালনা করেছে। এভাবে করলে জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন আমাদের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াবে।’
নাহিদ বলেন, ‘আমাদের ৫৪ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান তার কবর রচনা করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু নির্বাচনের পরে দেখলাম তারা জনগণের সাথে প্রচারণা করছে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা বলেছি, উচ্চকক্ষ লাগবে। কারণ বাংলাদেশে যেকোনো সরকার ক্ষমতায় এলে সংবিধান নিজের মতো সংশোধন করে নেয়। ফলে একটা ভারসাম্য দরকার। সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেন একটি গণভোটের ব্যবস্থা থাকে। আমরা বলেছি, যেন সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ না হয়, নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক হাতে না থাকে। সর্বদলের সম্মতিতে গ্রহণযোগ্যভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেন প্রতিষ্ঠা হয়, বিচার বিভাগের পৃথকীকরকণ হয়। এগুলো দিয়েই যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে, তা নয়। তবে আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই।’
নাহিদ বলেন, ‘আমরা সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলেছি। সংশোধনের মাধ্যমে এটা টেকসই হবে না। বিএনপি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চাইলে সেটি টেকসই হবে না, যেকোনো সময় এটা বাতিল হতে পারে। আমি সংসদে বলেছি, জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক ভুল করেছিল ফলে বাহাত্তরের সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের আদর্শ এবং রাজনীতি ফিরিয়ে আনার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে।’
নাহিদ আরও বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্টের কথা অনেকবার এসেছে। নোট অব ডিসেন্টের যেকোনো সিদ্ধান্তে আপনারা দেখবেন, পার্লামেন্টে অনেক সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখানে অনেক বিরোধিতা আছে, অনেকের বক্তব্য আছে যে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না, তা সেই নোট অব ডিসেন্টগুলো লিখিত হয়, রেকর্ডেড হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত কিন্তু পাস হয়ে যায়। নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছিল এটা হিস্টরিকাল ডকুমেন্ট হিসেবে থাকবে। এটা সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব বিস্তার করবে না। কিন্তু জুলাই সনদ সেদিন স্বাক্ষর হয় সেদিন আলাদা করে নোট লেখা হয়েছে সবগুলোতে। যার মানে যে দল আসবে, সে দল নিজেরা সংস্কার করবে তাদের মতো করে। তাহলে তো আর জুলাই সনদের বাস্তবতা থাকে না, প্রাসঙ্গিকতা থাকে না। সে জায়গা থেকে জুলাই আদেশ দেওয়া হয়, গণভোট দেওয়া হয়।’
নাহিদ আরও বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানে যুক্ত করার প্রতিজ্ঞা দেওয়া আছে। এ বিষয়ে আমরা এখনো কথা বলতে শুনি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের লড়াই হোঁচট খেলে মানুষকে বারবার রাজপথে নেমে আসতে হয়। আমরা সেটা চাই না।’