বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে প্রথম দিন ফজর নামাজ পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সুযোগ পেলে, মহান আল্লাহ ইচ্ছায় জনগণের ভালোবাসায় আমরা সরকার গঠন করলে প্রথম দিনে ফজর নামাজ পড়েই আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করব ইনশা আল্লাহ।’
দেশের মানুষ পরিবর্তন চাইলেও ‘একটি মহল’ পরিবর্তনের বিরোধী। তবে দেশের লাখ লাখ সাহসী সন্তান আজ এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সঙ্গে তিনি আসন্ন নির্বাচন পরিবর্তনের এক ‘মহাসুযোগ’ উল্লেখ করে পরিবর্তনের রাজনীতির সূচনা করে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ও ১১ দলীয় জোটের মার্কায় ভোট চেয়েছেন।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
ভাষণে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু একটি মহল পরিবর্তনের বিরোধী। কারণ, পরিবর্তন হলেই তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হবে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
তরুণদের প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর হিম্মত সবার থাকে না। এই হিম্মত দেখিয়েছেন আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদি ও তাঁদের সহযোদ্ধারা। তাঁদের রক্তের শপথ নিয়ে নতুন প্রজন্মের লাখ লাখ সাহসী সন্তান আজ এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সঙ্গী হতে চাই। প্রচলিত ধারা বদলাতে চাই।’
আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের সব রাজনৈতিক দলের একটি নৈতিক দায়িত্ব জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।’
জনগণের কাছে চেয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আশা করি আপনারা আমাদের অঙ্গীকার ও স্বপ্নকে বিশ্বাস করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রতি সমর্থন দেবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় এবং যেসব অঞ্চলে ১১ দলীয় প্রার্থী আছে, সেসব এলাকায় ১১ দলীয় প্রতীকে ভোট দেবেন, এ আকুল আবেদন আপনাদের প্রতি রাখলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ পরিবর্তনের এক মহাসুযোগ আমাদের দিয়েছে, আসুন সেটা কাজে লাগাই। বিগত দিনের রাজনীতি পরিহার করি।’
দেশ বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতিমুক্ত থাকুক—এমন প্রত্যাশা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘মানুষের জীবনে শান্তি ফিরুক। এই আমাদের চাওয়া। সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে। এমন বাংলাদেশ যেখানে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে কেউ দেশের চালকের আসনে বসতে পারবে না।’
গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট চেয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি এবং এ সংস্কার প্রক্রিয়াকে জারি রাখাসহ সংস্কার নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। এ গণভোট জনগণের সাধারণ ইচ্ছা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই গণভোটে হ্যাঁর পক্ষে ভোট চাই।’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য এক ‘মহাসুযোগ’ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত দিনে সমাধান করতে পারিনি, যে লুটেরা গোষ্ঠীকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, সেসব সমস্যার সমাধান এবং লুটেরা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হচ্ছে আগামী নির্বাচন।’
জনগণকে উদ্দেশ্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চাই—তাহলে আমাদের আগামী নির্বাচন নিয়ে নৈতিকভাবে ভাবতে হবে।’
নারীদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘যে সমাজ নারীর মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না, সেই সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। আমরা ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন সগৌরবে। করপোরেট জগৎ থেকে রাজনীতি—সবখানে তাঁদের মেধার মূল্যায়ন হবে কোনো বৈষম্য ছাড়াই।’
জনমানুষের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষা, বিচারাঙ্গন ও অর্থনীতি সংস্কারে প্রধান গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানান জামায়াত আমির।
জামায়াত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অন্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করব, তেমনি সকল দেশের সাথে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেব। তবে আমাদের জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখবে।’
এ সময় নির্বাচনী প্রচার বা দলের অন্যান্য কার্যক্রমে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তাঁদের কাছে ক্ষমা চান জামায়াত আমির।