অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করেছেন ছাত্রলীগের হাতে নিহত আবরার ফাহাদের ভাই আবরার ফাইয়াজ। পরে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন নাসীরুদ্দীন।
গতকাল বুধবার রাতে বুয়েটে তারাবির নামাজ আদায় করতে যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তাঁর উপস্থিতিতে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আবরার ফাইয়াজসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী।
ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আবরার ফাইয়াজ লেখেন, ‘বুয়েটের আজকের এই ছাত্র-রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস দুইটা জীবনের বিনিময়ে পাওয়া, শত শত পোলাপানের নিজেদের ক্যারিয়ারের চিন্তা না করে দিন-রাত এক করে দেয়া শ্রমের ফল। আমি জানি না নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভাই জানতেন কি না যে বুয়েট এরিয়া কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের জায়গা না। উনার এখানে এসে লাভ কী হলো তা-ও জানি না।’
তিনি আরও লেখেন, ‘কিন্তু উনি এসে ঠিক কতটা ক্ষতি যে আমাদের করলেন, তা বুঝতে দীর্ঘ সময় লাগবে। অবশ্যই নামাজ পড়তে আসা সমস্যা না, কিন্তু নামাজের পরে স্লোগান বা মিছিল তো দেশের যেকোনো মসজিদেই ঘোষণা দিয়ে গেলে হবে।’
অভিযোগের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুকে লেখেন, ‘আজ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কয়েকজন ভাইয়ের আমন্ত্রণে সেখানে তারাবির নামাজ আদায় করতে যাই। নামাজে যাওয়ার পর একজন এসে জানান, অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের বক্তব্য দেয়া যাবে না। আমি সঙ্গে সঙ্গে তা মেনে নিয়ে বলি, তারাবির নামাজ আদায় করে চলে যাবো।’
তিনি আরও লেখেন, ‘নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় আবারও আমাকে কিছু না বলার জন্য স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় এবং মিডিয়া ব্রিফিং না করার অনুরোধ জানানো হয়। আমি সেটিও সম্মানের সাথে গ্রহণ করি। সেখানে আমি শুধু শহীদ আবরার ফাহাদ এবং শহীদ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করি। পরবর্তীতে পলাশীতে এসে প্রেস ব্রিফিং করি এবং সবার সঙ্গে কথা বলি। এ সময় কয়েকজন “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগান দিলে আমি নিজেই তাদের থামিয়ে দিই।’
নাসীরুদ্দীনের লিখেছেন, ‘অরাজনৈতিক বুয়েটের সিদ্ধান্তকে আমি সর্বোচ্চ সম্মান করি এবং আমার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। শুনলাম আমার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল হবে, স্বাগতম। উপরে বর্ণিত কাজগুলো যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তবে আপনারা শাস্তি দিতে পারেন। আমার শির আপনাদের আদালতে নত। সবাই দোয়ায় রাখবেন। মা’আসসালাম।’