বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ সকল গুম-খুন এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। বিচার যদি নিশ্চিত না করা হয়, এই সরকার কোনোভাবে পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারবে না।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘এই নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরে গত চার মাসে আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) নতুন কোনো রায় আমরা এখন পর্যন্ত দেখি নাই। কোনো নতুন তদন্তের রিপোর্ট এখন পর্যন্ত দাখিল হয় নাই। এটা স্পষ্ট যে, যেই চিফ প্রসিকিউটরকে বসানো হয়েছে, তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন ‘যোগ্য ও দায়িত্ববান’ ব্যক্তিকে বসাতে হবে বলে দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক। যিনি আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিচার নিষ্পন্ন করবেন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন—এমন লোককে বসানোর দাবি জানান তিনি।
নাহিদ বলেন, ‘গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিদায় নিয়েছে। আর সংস্কার বাস্তবায়ন না করার ফলে বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদেরকে এখন সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠন মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী সংগঠন, যার আশ্রয় হয়েছে দিল্লিতে। কারণ, আওয়ামী লীগের শিকড় রয়েছে দিল্লিতে, আওয়ামী লীগ একটি ভারতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভারতীয় পার্টিই ছিল।’
আওয়ামী লীগের দেশে আসার, রাজনীতি করার সুযোগ বাংলাদেশে ৫ আগস্টে সমাপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, যারা সমঝোতা করছে, যারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতোই হবে।
নাহিদ আরও বলেন, আইনমন্ত্রী বিচার না করার কারণে তিনি স্পষ্ট ব্যর্থ হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা দিতে না পারায় তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী তিনি স্পষ্টভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, আওয়ামী লীগের সুশীল সমাজকে তিনি মিডিয়ায় স্পেস দিচ্ছেন। এই সবকিছুই বাংলাদেশের জনগণ দেখছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।