দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের একটা কালো ছায়া সরে গেল।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) কি কারণে পদত্যাগ করেছেন—এ বিষয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নাই। কারণ আমরা আগে থেকেই বিবেচনায় নিয়েছি যে, তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থাকার আর যোগ্য নন, তিনি তাঁর যোগ্যতা হারিয়েছেন।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতির দায়ভার আছে বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘তিনি দায়ভার অস্বীকার করতে পারেন না। তিনি অভিভাবক হিসেবে ব্যর্থ, তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেননি। এই গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি একটা শব্দ উচ্চারণ করেননি যে—এটা থামাও, এটা অন্যায্য, জনগণের ওপর এটা জুলুম। এ ধরনের কোনো কথা আমরা তাঁর মুখ থেকে শুনি নাই, নীরবে তিনি সবকিছুতে সমর্থন দিয়েছেন।’
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানান জামায়াত আমির। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ন্যায়নিষ্ঠ, নির্মোহভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন। কারও প্রতি তিনি কোনো ধরনের কোনো পক্ষপাতিত্ব করবেন না, নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করে চলবেন। তিনি বলেন, ‘যদি এইভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে আমরা তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আজকে তাঁর (মো. সাহাবুদ্দিন) পদত্যাগপত্র থেকে জেনেছি যে, তিনি গুরুতর অসুস্থ। এ জন্য তিনি দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে চান ,আর তিনি বিশ্রামে থাকতে চান। সেটা সরকার দেখবে, আমরাও খেয়াল রাখব। তবে আমি মনে করি, সব চিকিৎসাই দেশে সম্ভব। কারণ আমারও তো একটা জটিল রোগ হয়েছিল, আমাকে তো ডাক্তারেরা পর্যন্ত রিকমেন্ড করেছিল বাইরে যাওয়ার জন্য। আমি তো যাইনি, আমি তো এখানেই চিকিৎসা নিয়েছি।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘শুধু তাঁর ব্যাপারে না, আমি সবার ব্যাপারে চাই—এখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী যাঁরাই আছেন, আমি চাই যে—এই ব্যবস্থাটা দেশেই হোক, চিকিৎসা আপনি দেশেই নেন। সিলেক্টেড কিছু মানুষ বাইরে চলে যাবে, তাহলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত হবে কীভাবে?’