বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের লাখ লাখ বেকার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, ‘শুধু গার্মেন্টস শিল্প দিয়ে হবে? নতুন নতুন শিল্প স্থাপন করতে হবে। দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।’
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আজ শুক্রবার ভোরে এক নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এসব বলেন। সিলেট থেকে শুরু করা প্রথম দিনের নির্বাচনী সফরের এটি ছিল তাঁর শেষ সমাবেশ।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে দেশে এ ধরনের কোনো নির্বাচনী জনসভা হয়নি এবং মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এবার আমাদের সামনে সেই সুযোগ এসেছে। দেশকে নিরাপদ করতে হলে, ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের মূল কাজ হচ্ছে, সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করা। দেশের মানুষ এখন ভালো পরিবর্তন ও নিরাপদ রাষ্ট্র চায়; যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাচল করতে পারবে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে ফিরে পাওয়া ভোটাধিকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। আগামীতেও আমরা সবাই মিলেমিশে শান্তিতে থাকতে চাই। রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন ও মেরামত করতে হলে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হবে এবং হাজার বছরের এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভবিষ্যতেও বজায় রাখতে হবে।’
ভোট নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভোটের আগে একটি বাহিনী, একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে। নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি ও মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসীদের ব্যালট দখল করে নিয়েছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। মা-বোনদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা—এটার ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।’
ভোররাত পর্যন্ত জেগে থাকা নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কষ্ট করে কেন অপেক্ষা করছেন? ভোররাতে জেগে থাকা আপনাদের সবার মুখে একটি চাওয়া ফুটে উঠেছে। কী সেটা? বাংলাদেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। তারা চায় একটি নিরাপদ দেশ; যেখানে সবাই নিরাপদে থাকতে পারবে, নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে, রাস্তাঘাটে নিরাপদে চলতে পারবে।’
বক্তব্যের শেষে তিনি ধানের শীষ ও খেজুরগাছ প্রতীকের প্রার্থীদের জয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি-সমর্থিত জোটের প্রার্থী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, যুবদলের সভাপতি মেহেদী আমান মুন্না এবং মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ।