জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস দাবি করে বলেছেন, ‘গুপ্ত শিবিরের মাধ্যমে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ জায়েজ হোক, তা আমরা চাই না। আমরা দেখেছি, ৫ আগস্টের আগে যারা গেস্টরুম-গণরুমের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের অনেকেই পরে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলামের কাছে এ সংক্রান্ত স্মারকলিপি দিয়ে গণমাধ্যমে এসব কথা বলেন তিনি। স্মারকলিপিতে অতীতের ‘গেস্টরুম-গণরুম’ নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সিট বণ্টনে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।
সাহস বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে নামে-বেনামে যারা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করেছে, তারা যদি এখনো একই চিন্তা করে, তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।’
গেস্টরুম সংস্কৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে গেস্টরুম ও গণরুমের মাধ্যমে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে রাজনৈতিক আনুগত্য আদায় করা হয়েছে। এসব নির্যাতনের বড় শিকার ছিল ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা।’
এ দিকে সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে ক্যাম্পাসে একদলীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অনেক শিক্ষার্থী গণরুম, গেস্টরুমের নির্যাতনের শিকার হয়ে তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেনি।’
শিপন আরও বলেন, ‘আমরা উপাচার্য স্যারের কাছে দাবি জানিয়েছি—গেস্টরুম ও গণরুম নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদের সাসপেন্ড করতে হবে।’
দেশের স্বাস্থ্যের সংকটময় পরিস্থিতিতে ডাকসুর ভূমিকার সমালোচনা করে নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় অস্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহারের প্রস্তাব ডাকসু কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।’
এর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ করে ছাত্রদলের এ নেতা বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ডাকসু এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা এর নিন্দা জানাই।’
স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন—সিনিয়র সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন শাওনসহ অন্যান্য নেতারা।