হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

অদ্ভুত ঘটনা

সম্পাদকীয়

বিএডিসিতে ঘটেছে এক অদ্ভুত ঘটনা। সার পরিবহনের দরপত্র জমা দেওয়ার তারিখ থাকলেও কেউ তাতে অংশ নেননি। গত মঙ্গলবার দেশের অভ্যন্তরে ৭৫ হাজার টন এমওপি সার পরিবহনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ঠিকাদার দরপত্র জমা দেওয়ার কথা ভাবতেই পারেননি। ব্যাপারটা এমন নয় যে ঠিকাদারেরা চান না এই দরপত্রে অংশ নিতে। বিলক্ষণ চান। কিন্তু এরই মধ্যে কৃষক দলের এক নেতা হুমকি দিয়ে রেখেছেন। কাজটা যদি কেউ নিতে চান, তাহলে তাঁর সঙ্গে সমঝোতা করে নিতে হবে। সমঝোতা ছাড়া কেউ যদি দরপত্র জমা দেন, তবে তাঁর খবর আছে।

সমঝোতা! কী সুন্দর একটি শব্দ! প্রাণে প্রাণে মিলে যাওয়ার মতো শক্তিশালী একটি শব্দ। অর্থাৎ কাজ নিতে চাও, নাও, এ নিয়ে আমরা কিছু বলব না। কিন্তু কত টাকায় আমাদের সঙ্গে সমঝোতা করবে, সে কথা বলো তো বাপু! এই হলো সমঝোতা।

খুব সূক্ষ্মভাবে কাজটা করতে চেয়েছিলেন এই কৃষক দল নেতা। বিএনপি যখন ক্ষমতায় আছে তখন তিনিও একটু ক্ষমতা দেখাবেন না, তা কী করে হয়? অতএব তিনি এমন ব্যবস্থা করেছেন যেন কোনো ঠিকাদার ভয়ে দরপত্র জমা দিতে না আসেন। আর বিএডিসি কর্তৃপক্ষেরও বলিহারি! তারা ঠিকাদারদের ফোন করে বলে দিয়েছে, ‘নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া’ তাঁরা যেন দরপত্র জমা না দেন। দরপত্র জমা দিতেও নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা করতে হবে—এ রকম আজগুবি কথা আগে কোনো সরকারি দপ্তর থেকে শোনা গেছে বলে আমাদের জানা নেই।

বিএডিসির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, দরপত্র নিয়ে বিগত কয়েক বছরে তাদের দপ্তরে এমন ঘটনা ঘটেনি। বিএডিসির চেয়ারম্যান অতি দ্রুত পুনঃ দরপত্র আহ্বান করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দরপত্র জমা দেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন।

বিএনপি ও তার শাখা-প্রশাখারা মিলে যে অদ্ভুত এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, এ তারই এক নমুনা। অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্য বিরোধী দল কিংবা কোনো মাস্তান বাহিনীর প্রয়োজন নেই। সরকারি দলই চেটেপুটে খাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে। এ ধরনের অসংখ্য দুঃখজনক উদাহরণ সৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু সরকার কোনোভাবেই এদের সামাল দিতে পারছে না। দিন যত যাচ্ছে তত পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, কোনো ধরনের শাস্তি কিংবা বহিষ্কারাদেশ এই উদগ্র লালসাকে থামাতে পারছে না। তাই বিএডিসির চেয়ারম্যান অতি দ্রুত পুনঃ দরপত্র আহ্বান করার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর যে পরামর্শ দিয়েছেন, সেটা কতটা কার্যকর হবে, সে কথা আগে থেকে বলে দেওয়া যায় না। সরকারি দলের সদস্যের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দরপত্র জমা দেওয়ার কাজকে সহজ করে তুলবে, এ রকম নিশ্চয়তা সত্যিই কি ঠিকাদারেরা পাবেন? তাঁরা কি নির্ভয়ে দরপত্র জমা দিতে পারবেন? তাঁদের ভরসা দেবে কে? অস্তিত্বের স্বার্থেই বিএনপির উচিত নিজের লোকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

এ ছাড়া তাদের মুক্তির পথ নেই।