পেটে কত বছরের খিদে থাকলে বিমানবন্দর এলাকা থেকে স্বর্ণালংকার ছিনতাই করতে পারে কেউ? দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় না থাকার কারণেই কি বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি আর বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতির খিদে এতটা বেড়েছে? বিমানবন্দর এলাকার ক্ষমতাসীন দলের নেতা তাঁরা, এমনিতেই তো তাঁদের ক্ষমতার শেষ নেই। তারপরও এ রকম ছিঁচকে কাজ করতে হলো!
এরা যে ক্ষমতাসীন দলের উজির-নাজির, সে কথা আগে জানতে পারলে কি পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারত? ছিনতাই করার জন্য এরা বেছে নিয়েছিল সেই ইউনূসীয় মহৌষধ। আওয়ামী লীগ আর ছাত্রলীগ করার অভিযোগ তুলে এই দুর্বৃত্তরা স্বর্ণালংকার নিয়ে হায়েস গাড়িতে করে যাওয়া দুইজনকে বলাকা ভবনের সামনে পাকড়াও করে। ওদের কাছে বোমা আছে—এই কথা বলে মারধর করে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়!
ক্ষমতাসীন দলের লোক বলে এরা হয়তো ছাড়া পেয়ে যেত। আগে থেকে পরিচয় জানা থাকলে পুলিশের কাছে অনেক ধরনের তদবির যেমন আসতে পারত, তেমনি আসতে পারত হুমকি-ধমকি। ভাগ্যিস মারধরের সময় একজন পথচারী এই অন্যায়ের প্রতিবাদে এগিয়ে আসেন, অন্যজন ভিডিওতে তুলে রাখেন ছিনতাইকারীদের চেহারা। ফলে, চাইলেই এরা সহজে ছাড়া পাবে না। অবশ্য সরকারের বা বিএনপির উপর মহল এদের সম্পর্কে কী ভাবছে, তার ওপরও নির্ভর করবে এই ছিনতাইকারীদের ভবিষ্যৎ।
সরকারি দল করলে ধরাকে সরা ভাবা যায়, তার উদাহরণ ভূরি ভূরি আছে। এমনকি সরকারি দল না করেও সরকারের প্রীতিভাজন হওয়া যায়, তার নজিরও ইউনূস সরকার দেখিয়ে গেছে। ফলে, এই দুই গুণধর সভাপতির ওপর যদি কারও আশীর্বাদ নাজিল হয়, তাহলে যে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে, তাদেরই বরং চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে যেতে পারে। আর যদি অপরাধীর পক্ষ না নেয় দল বা সরকার, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এদের দল থেকে বহিষ্কার করে এবং প্রচলিত আইনে শাস্তি নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বোঝা যাবে, দল বা সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। তবে শঙ্কার কথা হলো, তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না সরকারের প্রসারিত হাত। কোনোভাবেই চাঁদাবাজি, ছিনতাই, হামলা ইত্যাদি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যাচ্ছে না দলের সদস্যদের।
সরকারপ্রধান এর আগেও দলের মধ্যে থাকা অপরাধীদের ব্যাপারে কঠোর হয়েছেন। ক্ষমতায় আসার আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে অনেককে। কিন্তু তাতে আশাপ্রদ কিছু ঘটেনি। তাঁর এই কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে দলের লোকজন সব সাধু হয়ে গেছেন—এ রকম ভাবার কিছু নেই। এভাবে চলতে থাকলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।
আমরা চাইব, সরকারের উপর মহল থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলা হোক, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে সরকার রক্ষা করবে না। নিয়ম মেনে আইনি প্রক্রিয়ায় এদের বিচার নিশ্চিত করবে। সেই প্রক্রিয়া যদি স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া হয়, তাহলে দলের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। দেখা যাক, কী ঘটে!