হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

ছাত্রদলের আহ্বায়ক

সম্পাদকীয়

যদি কেউ বলে, ১৯ বছরের খিদে পেটে থাকায় বিএনপি, যুবদল বা ছাত্রদল ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর খাই খাই রোগে আক্রান্ত হয়েছে, তাহলে কি ভুল কিছু বলা হয়? ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকেই ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে চাঁদাবাজির সঙ্গে যেভাবে জড়াচ্ছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো, তাতে সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার কথা যদি ভেবেও থাকে, তারপরও তা রক্ষা হবে কি না, সেটা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। প্রশ্ন তুললে অন্যায় হবে না। পরিস্থিতি যদি পুরোটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে অরাজকতা ঠেকানো মুশকিল হয়ে পড়বে।

নেত্রকোনার পূর্বধলায় এবার ছাত্রদলের আহ্বায়ক দলবল নিয়ে সাংবাদিক সেজে কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চাঁদা চেয়েছেন। কাভার্ড ভ্যানে যাচ্ছিল কয়েক বস্তা সোয়েটার। যখন কোনো মব থেকে কণ্ঠস্বর উঁচু করে বলা হয়, এই গাড়িতে অবৈধ মালামাল আর মাদক রয়েছে, তখন সেখানে তর্ক করবে, এ রকম সাধ্য কার? মব যে রকম ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, তাতে মবের সামনে পড়লে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসা যাবে কি না, সে কথাই মানুষ এখন ভাবে। মববাজির পর ক্ষতি হবে না, এটা বাহুল্য ভাবনা। নেত্রকোনায় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেবও সাংবাদিক সেজে কাভার্ড ভ্যানে হানা দিয়েছেন। ব্যাপারটা যেন এ রকম, অবৈধ মালামাল বা মাদক নিয়ে কোনো যন্ত্রযান যদি অগ্রসর হয়, তাহলে সাংবাদিকদের এখতিয়ার আছে সেটা থামিয়ে চাঁদা চাওয়ার। মানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর প্রয়োজন নেই, নিজেরাই বিচার বসিয়ে টাকা খাওয়ার ধান্ধা করা এতটাই সহজ হয়ে গেছে। আহ্বায়ক সাহেব গাড়িচালক ও হেলপারের কাছে বেশি কিছু চাননি। মাত্র ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিলেই গাড়ি ছেড়ে দিতেন তাঁরা। কিন্তু বেচারা চালক আর হেলপারের কাছে অত টাকা আসবে কোত্থেকে? তাঁরা তা দিতে পারেননি। তাতে রেগে অগ্নিশর্মা হয়েছেন ছাত্রদল নেতা। এবং তারপর গাড়িতে থাকা ১১ বস্তা সোয়েটার নিয়ে যান তাঁরা, যার মূল্য ৬৮ লাখ টাকার বেশি!

অবশ্য এই সোয়েটার গিলতে পারেননি তাঁরা। বদহজম হয়েছে। পুলিশ ও দলীয় নেতাদের জানালে তাঁদের মধ্যস্থতায় ৭৭৩ পিস সোয়েটারের মধ্যে ৭৬৬ পিস সোয়েটার উদ্ধার করে ফেরত দেওয়া হয়। বাকি সাতটি সোয়েটার কোন পথে গায়েব হয়ে গেল, সে হিসাব হয়তো কেউ চাইবে না এখন। কিন্তু এইটুকু লোভও সামলাতে পারেননি তাঁরা—ভাবা যায়!

পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পরিচয়দানকারী এই নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বটে, কিন্তু তাতে কি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-পাতিনেতাদের দৌরাত্ম্য কমবে? সে রকম কোনো লক্ষণ তো দেখা যাচ্ছে না। নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে তাঁরা যে পথ বেছে নিয়েছেন, সে পথ মোটেই গণতন্ত্রের পথ নয়। কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে একের পর এক বহিষ্কার করা হলেও চাঁদাবাজির এই মিছিল থামবে বলে মনে হয় না।