যুক্তরাষ্ট্র যখন অভিবাসী বাঙালিদের এক অংশের জালিয়াতি, বাটপারির সন্ধান পেয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভিসার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের এক নারীকেই বিয়ের ফাঁদে ফেলে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বাংলাদেশে বসবাসকারী এক ভণ্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ম্যারেজ মিডিয়া পেজ ব্যবহার করে ছদ্মনামে এই লোক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নারীটির সঙ্গে পরিচিত হন। নিজেকে কানাডাপ্রবাসী ও বিপত্নীক বলে অভিহিত করেন এই প্রতারক। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে তাঁদের বিয়েও হয়।
মূলত একটি ঘটনাই প্রবাসী নারীটিকে বিপদে ফেলে। একপর্যায়ে এই ভণ্ড ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এভাবেই ব্ল্যাকমেলের শুরু। নারীটির ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার ‘হাপিস’ করে দেওয়ার পর ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে মামলা করলে ভণ্ড মো. সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ভণ্ড চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছমদরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
বাঙালি যেকোনো জায়গায় যেকোনো অবস্থায় ‘করে খেতে’ পারে। টাউট, প্রতারক, বাটপারেরা সহজেই নিজেদের কাজ গুছিয়ে নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কথা যা বলা হলো, তা খানিক আলোচনা করে আবার ফিরব এই ভণ্ডের কাছে। যুক্তরাষ্ট্রে যে ৭৫টি দেশের ভিসা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে, তার তালিকায় বাংলাদেশ কেন এল, সে বিষয়টিও জানা দরকার। অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে হোমকেয়ারের নামে মোটা টাকা আত্মসাৎ করা বাঙালিদেরও সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দারা। নিউইয়র্ক পোস্টে ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত এক সংবাদে অন্যদের মধ্যে বাঙালি প্রতারকদের কথাও প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে বসবাসরত জনৈক বেলাল হোসেনও রয়েছেন। তিনি ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর মায়ের হোমকেয়ারের বিল বাবদ ৩ লাখ ৪৮ হাজার ডলার আত্মসাৎ করেছেন। যে মায়ের নামে টাকা তুলেছেন, সেই মা কোনো দিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি। ভাবা যায়! এই বেলাল হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অবৈধ হোমকেয়ার ব্যবসায় নিউইয়র্ক ছাড়াও ভার্জিনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, নিউজার্সিসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অভিবাসীদের দেখা পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এসেও প্রতারণা ও জালিয়াতি করতে সিদ্ধহস্ত হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের শিকড় কোথায় খোঁজা হবে? যুক্তরাষ্ট্রের এই নারীর সঙ্গে যে সালাউদ্দিন প্রতারণা করলেন, ব্ল্যাকমেল করলেন, তাঁর কাছে হয়তো এ প্রশ্নের আংশিক উত্তর পাওয়া যাবে। দেশে এবং প্রবাসে বুদ্ধিমত্তার জন্য বাঙালিদের নাম আছে। একই সঙ্গে ‘দুই নম্বরি’ করা বাঙালিদের সংখ্যাও কম নয়। সহজ ও আইনি পথকে অগ্রাহ্য করে যখন চোরাপথ বেছে নেওয়া হয়, তখন দেশের সম্মান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না।
এ ধরনের প্রতারণার শিকার যাঁরা হন, তাঁদের শুধু একটি কথাই বলা যায়, কারও সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে সম্পর্কে জড়াবেন না। বিপদ কোথায় লুকিয়ে আছে, সেটা যাচাই করে নিন।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এই প্রতারকের।