হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

অমানবিক

সম্পাদকীয়

মাদ্রাসায় আবার শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটল। যে শিশুকে ছয় মাস ধরে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয়েছে, তার বয়স সাত। ১২, ১৩, ১৫ বছরের কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীরা সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছে। শুধু কি তাই? একই মাদ্রাসার শিক্ষকও যোগ দিয়েছে ধর্ষকদের দলে। সাভারের মাদ্রাসায় ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনা যে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের জন্য ভয়ানক বিপদসংকেত, সে কথা অনুধাবন না করলে এ ধরনের ভয়াবহ শঙ্কা থেকে বের হওয়া কঠিন হবে। কোন মাদ্রাসায় ছাত্র বা শিক্ষক নামের ধর্ষকেরা লুকিয়ে আছে, সে কথা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। সুতরাং মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, তার অভিভাবকেরা সব সময়ই একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আগে আমরা প্রচলিত নিয়মে ‘পাশবিক’ শব্দটা ব্যবহার করতাম। কিন্তু নিজে আক্রান্ত না হলে পশুরা কাউকে আক্রমণ করে না। তাদের যৌন জীবনেরও একটা চক্র আছে। একমাত্র মানুষই কোনো নিয়ম মেনে চলে না। ক্ষমতাধর হলেই ক্ষমতাহীনের সঙ্গে যেকোনো আচরণ সে করতে পারে। তাই ‘পাশবিক’ শব্দটা এখানে ব্যবহার করলে পশুদের অপমান করা হয়।

বরং ‘অমানবিক’ বললে শব্দটার অর্থ বুঝতে সুবিধা হয়। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি কতটা অনৈতিক হতে পারে, তার নজির ইতিহাসে ভূরি ভূরি রয়েছে। ধর্ম শিক্ষাকেও কতটা কদর্য করে ফেলা সম্ভব, তারও প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বারবার। কোনো ধর্মই মানুষকে অমানবিক করে তোলে না। বলে রাখা ভালো, যৌন নির্যাতন শুধু মাদ্রাসাতেই ঘটে, তা নয়। বরং স্কুল, আবাসিক স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খেলাধুলার সংগঠন, সংস্কৃতি অঙ্গন, এমনকি পরিবারেও ঘটে থাকে। মাদ্রাসা নিয়ে এখানে বলা হচ্ছে শুধু এই কারণে যে সম্প্রতি মহামারির মতো প্রকাশিত হচ্ছে মাদ্রাসায় ধর্ষণের ঘটনা। শঙ্কার বিষয় হলো, ঘটনাগুলো প্রকাশ হওয়ার পরও মাদ্রাসায় ধর্ষণের ঘটনা কমছে না।

মাদ্রাসায় ধর্ষণের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে মোটা দাগে কয়েকটি কথা বলে নেওয়া যায়। আবাসিক মাদ্রাসায় ধর্ষণের আশঙ্কা বাড়ার কারণ হলো শিক্ষক বা তত্ত্বাবধায়কের হাতেই অলিখিতভাবে সর্বময় ক্ষমতা থাকে। এটাই শিক্ষককে অন্যায় আচরণের দিকে প্রলুব্ধ করতে পারে। ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই অমানবিক মানুষগুলো তাদের অন্যায়কে জায়েজ করার জন্য ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে। ধর্ষণের শিকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও যৌন নির্যাতনের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকে বলে সহজেই যৌন অপরাধের শিকার হয়। অভিভাবকদের দারিদ্র্যও মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই আচরণের একটি বড় কারণ। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্ধ আস্থা হলো এই ধরনের অবিচার ও অন্যায় ঘটার বড় কারণ।

মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এ ধরনের অনৈতিক আচরণের ব্যাপারে দেশের আলেমসমাজের অদ্ভুত নীরবতা পীড়া দেয়। ধর্মীয় নেতারা যদি এ সময় মুখ বন্ধ করে থাকেন তবে তাতে জনগণের কোনো উপকার হয় না।

আমরা চাই সাত বছরের এই শিশু সুস্থ জীবন ফিরে পাক। আর ধর্ষক ও ধর্ষকদের সহায়ক সবাই বিচারের মাধ্যমে শাস্তি পাক। ধর্মকে ব্যবহার করে মিথ্যা বলার সুযোগ যেন এই অমানুষেরা না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।