হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

ত্যাগের মহিমায় ঈদের সুবাস

সম্পাদকীয়

ঈদুল আজহা দরজায় কড়া নাড়ছে। চারপাশের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে উৎসবের সুবাস। বৃহস্পতিবার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে। আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি এই দিনটির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ—স্রষ্টার সন্তুষ্টিতে প্রিয় জিনিস উৎসর্গ করার সেই অপার্থিব অনুভূতি, যা যুগ যুগ ধরে মুমিনের হৃদয়কে আলোড়িত করে আসছে।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সেই মহান আত্মত্যাগের স্মৃতি বুকে ধারণ করে প্রতিটি মুমিন আজ আল্লাহর দরবারে মাথানত করেন। পুত্রসম প্রিয় জিনিসকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করার যে অনুপম দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, সেই চেতনাকেই বুকে লালন করে যুগের পর যুগ ধরে মুসলমানরা কোরবানি দিয়ে আসছেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘কোরবানির পশুর রক্ত বা মাংস তাঁর কাছে পৌঁছায় না—পৌঁছায় কেবল তাকওয়া, কেবল মনের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা।’ তাই এই দিনটি উৎসবের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অসাধারণ সুযোগ।

ঈদের দিন নতুন পোশাক পরে ঈদগাহে যেতে সবারই মন চায়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছে থাকে সবার। কিন্তু সাধ আর সাধ্য সবার মেলে না। আমাদের সমাজের অনেক মানুষ এখনো কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন না। কোরবানি দিতে না পেরে অনেকের মুখের হাসি ফিকে হয়ে যায়, মনে জমে ব্যথার মেঘ। এই মানুষগুলোর কথা ভুলে গেলে চলবে না। মনে রাখতে হবে—ত্যাগের শিক্ষা নিয়েই জিলহজের চাঁদ আকাশে হাসে। পরস্পর আনন্দ ভাগাভাগি করার নামই তো ঈদ। তাই যারা সামর্থ্যবান, তাদের উচিত প্রতিবেশী ও আশপাশের অসহায় মানুষদের কথা মনে রাখা। অযথা বিত্তবৈভবের প্রদর্শনী না করে সত্যিকারের ইবাদত ও সমাজসেবার মানসে গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই নিহিত কোরবানির প্রকৃত সার্থকতা।

কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বিতরণের পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি—পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা। কোরবানির বর্জ্য যেন রাস্তায়, নালায় বা খোলা জায়গায় পড়ে না থাকে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে পরিবেশদূষণ করা কোরবানির পবিত্রতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

ঈদুল আজহার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে হজের পবিত্র বিধান। শুভ্র বসনে রবের দুয়ারে রহমতের ভিখারি হয়ে দাঁড়ান লাখো হাজি। হজ মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় বিশ্ব সম্মেলন—বর্ণ, গোত্র ও জাতীয়তার ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা। মক্কায় এখন যাঁরা হজের ইবাদতে মগ্ন, আল্লাহ তাঁদের হজ কবুল করুন। যাঁরা এখনো হজের সুযোগ পাননি, মহান রব তাঁদের হজে যাওয়ার তাওফিক দিন।

হজের পবিত্রতা, কোরবানির ত্যাগ আর ঈদের আনন্দে ভরে উঠুক প্রতিটি ঘর, প্রতিটি পরিবার। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষ মুক্তি পাক। ঈদের আনন্দে ধুয়েমুছে যাক সব বেদনা, সব গ্লানি, সব কষ্ট। প্রিয়জনদের সঙ্গে সুন্দর ও আনন্দময় হোক এই ঈদুল আজহা।

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

প্রয়োজন সচেতনতা

এবার ডায়রিয়া

বিপিসি সমাচার

স্কন্ধকাটা লাশ

হামে আর কত মৃত্যু

উপাচার্য নিয়োগ

বনভূমি রক্ষা করতেই হবে

আবারও যৌন হয়রানি

গ্যাস

লড়াই