হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

দণ্ড ও যুবদল নেতা

সম্পাদকীয়

আপনি নানা ধরনের অন্যায় করবেন কিন্তু সে অপরাধের জন্য কোনো সাজা হবে না, এটা নিশ্চিত করতে হলে আপনাকে সরকারি দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। নানা সময় সরকারি দলের নানা লোক এই ‘অধিকার’ ভোগ করে এসেছেন, তাই নতুন বিএনপি সরকারে এ রকম নেতা পাওয়া যাবে না—তা কি হয়? যুবদল নেতা শাহীন আলমের মতো ‘সৌভাগ্যবান’ নেতা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলে নিশ্চয়ই অনেকে আছেন।

কিন্তু বেরসিক সাংবাদিকেরা কেন যে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর যুব আহ্বায়ককে ‘টার্গেট’ করলেন, তা নিয়ে শাহীন আলম অভিযোগ করতেই পারেন। তিনি বলতে পারেন, ‘কেন রে বাবা! এই দুনিয়ায় কি আমার মতো আর কোনো সাজাপ্রাপ্ত নেতা নেই? আর কারও কি পাঁচটা মামলায় সাজা হয়নি? আর কারও ওপর কি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি নেই? তাহলে আমাকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া কেন?’

শাহীন আলম বলতেই পারেন, ‘আমাদের দল সরকারে আছে না? সরকারি দলের একজন নেতা হিসেবে আমার কিছু অগ্রাধিকার থাকবে না? ঋণ পরিশোধ না করার কারণে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমার নামে কয়েকটি মামলা করতে পারে। তারই একটি মামলায় রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক আমাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিতে পারেন। এর সঙ্গে আবার ২১ লাখ ৮৬ হাজার ২৪১ টাকা অর্থদণ্ডও দিতে পারেন। অন্য আরেকটি মামলায় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের মামলায়ও আমি এক বছরের কারাদণ্ড আর ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড পেতে পারি। একজন সরকারি দলের নেতার কি সামান্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা থাকবে না?’

আরও যে মামলা ও সাজা আছে তাঁর বিরুদ্ধে, সেটা আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেই জেনে নেওয়া যাবে। শাহীন আলম গুণে গুণমণি। রাজহাঁসের মতো পানিতে ভাসছেন। এক ফোঁটা পানিও তাঁর শরীর স্পর্শ করছে না!

থানার ওসি শাহীন আলমের ‘মর্যাদা’ বুঝতে পারেন। তিনি যখন মাঝে মাঝে মোহনপুর থানায় যান, তখন থানার ওসি তাঁর সঙ্গে আড্ডা দেন বলে প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে। আর চা দিয়ে আপ্যায়ন তো আমাদের বাঙালি শিষ্টাচারের প্রকাশ। সুতরাং সামনে এক কাপ চা-ও চলে আসে। তাতে আড্ডাটা জম্পেশ হয়। এক আড্ডায় মিলিত হলেও তাঁর কাছে শাহীন আলমের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি দৃঢ় চিত্তে বলেন, ‘আমরা শাহীনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’ তিনি হয়তো ঠিকই বলেছেন। চায়ের আসর থেকে তো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না। গ্রেপ্তার করতে হবে ‘ফোর্স’ নিয়ে গিয়ে কোনো গোপন আস্তানা থেকে!

শুধু শান্তির ললিতবাণী আওড়ে কি এ ধরনের অরাজকতা থামানো যাবে? এই লোককে গ্রেপ্তার করে, তাঁর বিচার করে একই ধরনের দুষ্টগ্রহগুলোকে বার্তা দিন, ‘সাবধান। সরকারি দলে থাকলেই ধরাকে সরা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।’ পারবে সরকার সে অবস্থানে দৃঢ় হতে? এটা কোটি টাকার প্রশ্ন। উত্তর ইতিবাচক না হলে এ প্রশ্নের এক পয়সাও দাম নেই!