হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

নেপালে নতুনরা জয়ের পথে

সম্পাদকীয়

নেপালে রাজতন্ত্র বিলোপের পরে ক্ষমতাসীন দলগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় সেখানকার রাজনীতিতে একধরনের অস্থিরতা বিরাজমান ছিল। দুর্নীতিসহ নানা ধরনের সংকটে জনগণ ক্ষুব্ধ ছিল। জনগণের সেই ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে এবারের নির্বাচনে জেন-জিদের নেতৃত্বদানকারী দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) অভাবনীয় জয় পেতে যাচ্ছে। ক্ষমতায় গেলে এই দল কি জনগণের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে, নাকি নেপাল পুরোনো পথেই হাঁটবে? নেপালে যখন এ নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এনসিপি কেন ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল শুরু হয়ে গেছে।

এবারের নির্বাচনে আরএসপির রাজনৈতিক প্রচার কৌশলের কেন্দ্রে ছিল রিসার্চ, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন বিভাগ। ১১ সদস্যের একটি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০০ দলীয় কর্মী তিনটি দলে ভাগ হয়ে কাজটি করেন। ভোটের আগে দলটি অত্যন্ত হিসাবি একটি গণমাধ্যম কৌশলও অনুসরণ করে। বালেন্দ্র শাহ প্রতি আট দিনে একটি করে বড় ভাষণ দেন, যাতে প্রতিটি সমাবেশের বার্তা ৬৬০ সদস্যের সোশ্যাল মিডিয়া টিমের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ডিসেম্বরে আরএসপিতে যোগ দেওয়ার আগে বালেন্দ্র শাহ ছিলেন কাঠমান্ডুর মেয়র। ২০২২ সালে তিনি এই পদে নির্বাচিত হন। নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় র‍্যাপ তারকা হিসেবে তাঁর লাখ লাখ অনুসারী ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই জনপ্রিয়তা কাজে লাগান তিনি।

কে পি শর্মা ওলি বা নেপালি কংগ্রেসের মতো দীর্ঘদিনের শাসকেরা অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও বেকারত্ব দূর করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমন অবস্থায় গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনকে বালেন্দ্র শাহ শুধু রাজপথে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং তরুণদের ডিজিটাল আবেগকে একটি রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেন।

নেপালের এই চিত্র দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কেন এমন ‘বিকল্প’ ধারার রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হলো না? সাধারণ মানুষ শুধু পরিবর্তনের কথা শুনে ভোট দেয় না, বরং কে পরিবর্তন আনবে—সেই ব্যক্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে চায়।

নেপালের তরুণেরা দুর্নীতি, বেকারত্ব ও আধুনিকায়নকে মূল ইস্যু হিসেবে সামনে এনেছেন। বাংলাদেশের এনসিপির তরুণ নেতৃত্ব রাজনীতির নতুন ভাষা নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানের পরপরই তাঁদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে অভিযোগ আছে। কাজের চেয়ে কথা বেশি বলার অভিযোগও আছে তাঁদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আরএসপি নতুন ভোটারদের মন জয় করার জন্য রাজনীতিতে নতুন ভাষা ও স্বপ্ন নির্মাণ করতে পেরেছে। এ কারণে নতুন ভোটাররা তাদের প্রতি বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা—জনগণের ক্ষোভের আগুনে যদি সঠিক নেতৃত্ব ও স্বচ্ছতা না থাকে, তবে সেই আন্দোলন শুধু হাহাকারই তৈরি করে, কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে না। আমরা আশা করব, নেপালের নতুন নেতৃত্ব সেখানকার জনগণের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যাবে।

ঈদযাত্রা, চাঁদাবাজি ও যানজট

শিক্ষার্থী

যুদ্ধের আগুনে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি

ট্যাগ

হুমকি

পিয়নের ক্ষমতা

৯ শতাংশ

ইরানে হামলা

এই নির্মমতার শেষ কোথায়

ভাগিনার চাঁদা তোলা