হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

শাবাশ পিচ্চি রাজা

সম্পাদকীয়

কাজের মতো এক কাজ করেছে পিচ্চি রাজা। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছে। আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর কারাগারে ফেরার পথে এই কাণ্ড ঘটেছে গত রোববার সন্ধ্যায়। কাণ্ডটা আর কিছু নয়। সে বলেছে, ‘টয়লেট’ আটকে রাখতে পারছে না। এ রকম অবস্থায় আসামি যেন পালাতে না পারে, সে রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিশ্চয় পুলিশ আসামিকে টয়লেট করতে দেয়। এ ক্ষেত্রে আসামিকে ভোঁ-দৌড় দেওয়ার সুযোগ কেন করে দেওয়া হলো, সে প্রশ্ন স্বভাবতই উঠতে পারে। তবে আমাদের মনে আরও একটি প্রশ্ন আছে—এই অসাধারণ কর্মটির জন্য কাকে বাহবা দিতে হবে। স্বয়ং পিচ্চি রাজাকে, নাকি পিচ্চি রাজার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের।

পিচ্চি রাজার বেশ নামডাক। নইলে তাকে মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী বলা হবে কেন? শীর্ষ সন্ত্রাসী হওয়ার জন্য তাকে কি কম মেহনত করতে হয়েছে। এলাকার মাস্তানদের ওপর মাস্তানি করার মতো যোগ্যতা তো আর এমনি এমনি হয়নি। খোঁজ নিলে জানা যাবে পিচ্চি রাজার শাসন, এলাকার মহান রাজা হিসেবে তাকে খাতির করত সবাই। মব সন্ত্রাসের এই রমরমাকালে কেন পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটি বড় প্রশ্ন। পিচ্চি রাজা তো এই মববাজদের শিক্ষাগুরু, দীক্ষাগুরু হয়ে উঠতে পারত। নতুন মববাজরা যদি তার কাছ থেকে মাস্তানির সুচারু শিক্ষা পেত, তাহলে নির্বিঘ্নে মবের রাজত্ব আরও বিস্তার লাভ করতে পারত।

পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এ বছরের ২৯ মে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে। এর আগেও ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সে গ্রেপ্তার হয়েছিল। বিপুল পরিমাণ মাদক আর অস্ত্র উদ্ধারের কথা তখন জানিয়েছিল পুলিশ। বোঝা যাচ্ছে, এতসবের পরও সে ছাড়া পেয়েছিল, নইলে দুই বছর পর আবার গ্রেপ্তার হবে কীভাবে? সে বেরিয়ে এসেছিল বীরদর্পে। সুতরাং চোর-পুলিশ, ডাকাত-পুলিশ বা সন্ত্রাসী-পুলিশ যে নামেই ডাকা হোক না কেন; এই খেলায় পুলিশ বেশির ভাগ সময় চোর-ডাকাত-সন্ত্রাসীর সঙ্গে পেরে ওঠে না। চোর-ডাকাত-সন্ত্রাসীর থাকে গডফাদার। সমাজের খুব কিউট সম্প্রদায় সেটা। সবার সঙ্গে গলায় গলায় ভাব তাদের। হেন কিছু নেই, যা তারা করতে পারে না। তারা সমাজের সব ধরনের মানুষকে পুষতে পারে। পিচ্চি রাজাও নিশ্চয়ই তাদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে উঠেছিল; নইলে রাজত্ব হারাতে হতো না।

পুলিশ এখন কী করবে, সেটি পুলিশ ভাবুক। আর মব সন্ত্রাসী কিংবা ছিঁচকে মাস্তানেরা পিচ্চি রাজার পলায়নকে আশীর্বাদ হিসেবে নিয়ে দলে দলে তাকে খুঁজতে থাকুক। আর জেলে আটকে থাকা আরও যে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা রয়েছে, তারা কবে পলায়নসংক্রান্ত খেলায় শামিল হবে; সেটি নিয়েও আলোচনা হোক।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যদি রোধ করা না যায়, তাহলে জেলখানায় কোনো সন্ত্রাসী থাকবে না। তারা বিচরণ করবে খোলা হাওয়ায়। আর নিরীহ মানুষে ভরে যাবে কারাগার।