হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

আত্মহত্যা

সম্পাদকীয়

মানুষ কেন আত্মহত্যা করে, তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মনোবিজ্ঞানীরা একক কোনো কারণ আবিষ্কার করতে পারেননি। তবে আত্মহত্যার জন্য বহুমাত্রিক কারণ জড়িত। একজন ব্যক্তি যখন নিজের প্রতি আস্থা রাখতে পারেন না, তখন তিনি নিজেকে শেষ করার পথ বেছে নেন। কিন্তু যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়ে যায়, তখন সেটি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। ঠাকুরগাঁওয়ে গত ১৩ মাসে ৩৪৬ জনের আত্মহত্যার ঘটনা সেই ইঙ্গিতই দেয়। জেলার সদর ও পীরগঞ্জ উপজেলায় এই আত্মঘাতী প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

একটি জেলায় আত্মহত্যার হার অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারটি বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; বরং ঘটনাগুলো সেখানে কেন ব্যাপক মাত্রায় ঘটছে, তা নিয়ে এখনই আমাদের ভাবতে হবে। যদিও আত্মহত্যা একটি মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের চূড়ান্ত প্রকাশ। কিন্তু বাংলাদেশে এই বিপর্যয়কে দীর্ঘদিন ধরে দেখা হয়েছে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে। সেখানেই সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই জেলায় আত্মহত্যার কয়েকটি কারণ জানা গেছে। যেমন মিম নামের এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে না। সে থাকে চাচার পরিবারের সঙ্গে। ফলে নিঃসঙ্গতা আর নিরাপত্তাহীনতা থেকে আত্মহত্যার পথ সে বেছে নিতে পারে। তানিয়া নামের এক কিশোরী মোবাইল ফোন না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আর ২৮ বছরের এক তরুণ ঋণগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সব কটি ঘটনার কারণ না জানা গেলেও মোটাদাগে বলা যায়, সামাজিক অস্থিরতা মানুষকে এ পথ বেছে নিতে বাধ্য করছে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা এগুলোর মধ্যে অন্যতম।

প্রান্তিক পর্যায়ে ঋণের বোঝা এবং দারিদ্র্য যুবসমাজকে দিশেহারা করে দিচ্ছে। অন্যদিকে নারীর ক্ষেত্রে যৌতুক, পারিবারিক নির্যাতন এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এখনো আত্মহত্যার প্রধান প্ররোচনা হিসেবে কাজ করছে। তবে বিষাক্ত কৃষিজ রাসায়নিকের সহজপ্রাপ্যতা আত্মহত্যার হার বাড়ার কারণ বলে এক আন্তর্জাতিক গবেষণা থেকে জানা যায়।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো মানসিক স্বাস্থ্যসেবার চরম ঘাটতি। আজও আমাদের সমাজে মানসিক সমস্যাকে পাগলামি কিংবা অবহেলা হিসেবে দেখা হয়। বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তি যখন বলে, ‘আমি আর পারছি না’, তখন সমাজ সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে উপহাস করে, যা তাকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।

এই বাস্তবতায় আত্মহত্যা প্রতিরোধে একক কোনো উদ্যোগ কাজে দেবে না। স্কুল থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যশিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং স্থানীয় পর্যায়ে কাউন্সেলিং সেবা বিস্তৃত করতে হবে। অভিভাবকদের সহমর্মী আচরণ দিয়ে সন্তানদের আগলে রাখতে হবে। মা-বাবাকে নিতে হবে সন্তানদের মনের খবর। আইনগত সংস্কারও জরুরি। আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পরিত্যাগ করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বহু আগেই বলেছে, আত্মহত্যা একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা, অপরাধ নয়।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কীটনাশক এবং আগাছানাশকের বিক্রি ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নয়তো এসব খেয়ে কেউ আত্মহননের পরিকল্পনা করলে তার দায়ভার রাষ্ট্রের ওপরও বর্তাবে।

এখনো চলছে

প্রযুক্তির সুনিপুণ ব্যবহার

অর্ধনির্মিত সেতু

পোস্টাল ব্যালট-কাণ্ড

বিপন্ন ৩২ পরিবার

নিরাপত্তা

এক লাখ টাকা

সুপার ফাইভ বাহিনী

একটি ভালো উদ্যোগ

শিশুশ্রম