হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

সড়কপথের দুর্ঘটনা

সম্পাদকীয়

প্রতিবছর ঈদ উৎসবের সময় আমাদের দেশের সড়কগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক তথ্যমতে, এবারের ঈদুল আজহার সময় মাত্র ১৫ দিনে দেশজুড়ে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আর আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৯৪ জন। ঈদের আনন্দ নিয়ে অনেকের বাড়ি ফেরা যেমন হয় না, তেমনি বাড়ি থেকে অনেকে গন্তব্যে আর ফিরতে পারেন না। ফলে বহু পরিবারে নেমে আসে আজীবনের কান্না। কোনো সভ্য দেশে এ রকম ঘটনার নজির নেই। কিন্তু আমাদের দেশে সেটা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেই যেন মেনে নেওয়া হয়।

সড়ক দুর্ঘটনা কোনো প্রাকৃতিক ব্যাপার না। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার ঘাটতিই মূলত এর জন্য দায়ী, যাকে কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড বলা শ্রেয় হবে। ঈদের সময় বাড়তি যাত্রীর কারণে গাড়ি ও চালকের সংকট থাকে। ফলে একজন চালককে একাধিক ট্রিপে গাড়ি চালাতে হয়। সময়স্বল্পতায় চালকের ঘুম ঠিকমতো না হওয়ায় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এক তথ্যমতে, প্রায় ৮০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে চালকের কারণে। এর বাইরে ত্রুটিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী পরিবহন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এ ব্যাপারগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখের সামনে ঘটে থাকে। একই সঙ্গে দেশের বেহাল সড়ক ব্যবস্থাকেও দায়ী করতে হয়।

নাগরিকদের জীবন রক্ষা এবং ঈদযাত্রার সময় অন্তহীন ভোগান্তি কমাতে হলে এখন আর জোড়াতালি দিয়ে প্রতিরোধ করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত, সুদূরপ্রসারী এবং সাহসী পদক্ষেপ। দেশের গণপরিবহনব্যবস্থার আমূল সংস্কার এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এ লক্ষ্যে সরকারকে অবিলম্বে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিশেষ করে ঈদের সময় দূরপাল্লার বাসে বিকল্প চালকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় বা দূরত্বের পর চালক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে মহাসড়কগুলোতে কঠোর নজরদারির জন্য চেকপোস্ট বসাতে হবে। ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন যাতে কোনোভাবেই সড়কে নামতে না পারে, তার জন্য বিআরটিএ এবং হাইওয়ে পুলিশকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া চালকদের পেশাদার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের কাজের সময়সীমা নির্ধারণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ডিজিটাল ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করে চালকদের গতিসীমা ও আইন লঙ্ঘনের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করাও জরুরি।

সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে রেল ও নৌপথকে আধুনিক, সাশ্রয়ী ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হবে। সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে হবে। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে একটি পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড় করানো ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

পর্যটনের সম্ভাবনা

কারারক্ষীর কাণ্ড

রাজনৈতিক সহনশীলতা

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

সিনেমা

এখনো মব

কিশোর উত্ত্যক্তকারী

শিশু হত্যা

ত্যাগের মহিমায় ঈদের সুবাস

প্রয়োজন সচেতনতা