হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

এখন কেমন লাগে

সম্পাদকীয়

শিরোনামের বাক্যটি একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের বার্তা। একজন চিকিৎসকের কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা চেয়ে যারা হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েছিল, তারাই রাতে চেম্বার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেই চিকিৎসককে প্রহার করেছে এবং পরে বার্তা পাঠিয়েছে, ‘এখন কেমন লাগে?’

এ রকম একটি অঘটন ঘটার পর সংগত কারণেই এই প্রশ্ন করা যায়, দেশটা কি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে? থানা-পুলিশ কি অচিরেই অবান্তর হয়ে পড়বে? সন্ত্রাসী দল এই চিকিৎসককে অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে চিঠি দিয়েছিল। অর্থাৎ সন্ত্রাসীর দল যেন রবিনহুডে পরিণত হয়েছে। অসৎ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তাদের কাজ। কিন্তু রবিনহুড যে কারণে বড়লোকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত, সেটা নিশ্চয়ই এই সন্ত্রাসীদের জানা নেই। চাঁদার টাকা তারা নিশ্চয়ই রবিনহুডের মতো গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিত না। সে টাকা যেত তাদের নিজেদের পকেটে। যদি সত্যিই এই চিকিৎসক অসৎ হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর অসততার প্রমাণসহ পুলিশের কাছে যেতে পারত তারা। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু এদের উদ্দেশ্যই তো খারাপ। যেকোনো মূল্যে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি এই সন্ত্রাসীর দল।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার রাতে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে। তিনি তখন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মোহাম্মদপুরের বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

এই অঘটনটি নিয়ে যে প্রশ্নগুলো ওঠে, সেগুলো রসিকতার চোখে দেখলে এ রকম হবে। এক. বাংলাদেশে বসবাসরত একজন চিকিৎসকের কাছে বাংলাদেশেরই কয়েকজন সন্ত্রাসী ডলারে চাঁদা চেয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের চাঁদাবাজি এখন আন্তর্জাতিক ‘মর্যাদা’ পেয়েছে। নতুন মববাজ, চাঁদাবাজ, মাস্তানদের জন্য এ একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ বার্তা হিসেবে সমাদৃত হতে পারে। যাঁরা চাঁদাবাজির হুমকি পাবেন, তাঁরাও এখন আগেভাগেই ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ থেকে আগাম ডলার কিনে রাখবেন। তাতে ডলারের বাজার চাঙা হবে। দুই. যে কেউ যে কাউকে অসৎ, দুর্নীতিবাজ বলে আখ্যায়িত করে প্রহার করার লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। কোনো তদন্ত, বিচারের ধার ধারতে হবে না। সন্ত্রাসীরা বলেছে, কেউ দুর্নীতিবাজ। তাহলে তিনি দুর্নীতিবাজ হন বা না হন, তাঁকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যা দিতে হবে এবং তাঁকে পেটানো বৈধ হয়ে যাবে। তিন. প্রত্যেক সন্ত্রাসীর মোবাইলে একটি বাক্য কপি করা থাকবে। কাউকে বেধড়ক পেটানোর পর সেই অমূল্য বাক্যটি, অর্থাৎ ‘এখন কেমন লাগে’ বাক্যটি সে পাঠিয়ে দেবে মার খাওয়া মানুষটার কাছে। সেই সন্ত্রাসী যদি গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় থাকে, তাহলে সে গর্বের সঙ্গে মোবাইলে ‘গুপ্ত’ হয়ে থাকা অমোঘ এই বাক্যটি দেখিয়ে দেবে পুলিশকে। পুলিশ তখন তাকে না ধরে কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলবে। পার পেয়ে যাবে সন্ত্রাসী।

এবার রসিকতা থাক। পাঁচ সন্ত্রাসীর একটি ধরা পড়েছে। ‘এখন কেমন লাগে’ বলে পুলিশ যদি তার সহযোগীদের ধরতে পারে, তাহলেই কেবল ভবিষ্যতে এই রসিকতাগুলো করার প্রয়োজন পড়বে না।