চারদিকে মিথ্যাচার ও প্রতিশোধস্পৃহার যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ ধর্মীয় হানাহানি উসকে দিচ্ছে, কেউ কেউ ইতিহাস বিকৃত করে দেশের তরুণদের বিভ্রান্ত করছে, কেউ কেউ মবতন্ত্রকে ভবিষ্যৎ উন্নতির পথ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। এই সমস্ত নেতিবাচক ঘটনার জন্মদাতা বিগত ইউনূস সরকার। এই অনির্বাচিত সরকার দেশের গণতন্ত্রকে সুপথে ফিরিয়ে আনবে বলে জনগণ ভাবলেও শাসনকালের পুরোটা সময় অন্তর্বর্তী সরকার জাতিকে বিভাজিত করতেই ব্যস্ত ছিল। এখন এই মহিরুহের মতো হয়ে ওঠা দানবকে বোতলবন্দী করবে কে?
আমরা অবাক হয়ে লক্ষ করেছি, সমাজের নামীদামি ব্যক্তিরাও এই ঘৃণা ছড়ানোর কাজে ব্যাপৃত আছেন। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বিকৃত ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে এমন মানুষেরাও আছেন, যাঁরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত, যাঁদের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে জনগণ শুনে থাকে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো কোনো মহারথী এমন সব কাণ্ডকারখানার জন্ম দিয়েছিলেন, যা আসলে পপুলার রাজনীতিরই অংশ। বিশ্বকাপ থেকে সরে গিয়ে বাংলাদেশের কোনো লাভ হয়নি। শুরুতে বাংলাদেশকে সরে দাঁড়াতে মদদ দিলেও পাকিস্তান কিন্তু ঠিকই সেই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে খেলবে না বলার পরও খেলেছে। ধর্মবিদ্বেষ ছড়ানো যাদের কাজ, তারা ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে ফায়দা হাসিল করে নিয়েছে। কোনো দেশের বিদেশনীতি, আধিপত্যবাদ নিয়ে কথাবার্তা হতে পারে, কূটনীতির জটিল পথ ধরে হেঁটে সেসব সমস্যার সমাধান করতে হয়। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে বানোয়াট কথাবার্তা দিয়ে জনগণের মনকে বিভ্রান্ত করার এই কৌশল এখনো টিকে আছে।
শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি মাখাতে গিয়ে আটক আয়াস নামের ব্যক্তিটি এই অল্প কয়েক দিনেই যেসব অপকর্ম করেছেন, তার বিচার বহু আগেই হওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে এ বছরের আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর রোডের বাড়ির সামনে তিনি নিজ উদ্যোগে মানুষ পিটিয়েছেন। মানুষ পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দায়িত্বটি তিনি কার কাছ থেকে পেলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? এরপর তিনি মাগুরায় গিয়ে সাকিব আল হাসানের বাড়ির ফটকের সামনে মূত্র বিসর্জন দেওয়ার মতো কাণ্ড ঘটান। এসব অশ্লীল ও অনৈতিক কাণ্ডের পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালচিত্রতে হাত দেওয়াতেই কি তাঁর কপাল পুড়ল? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেল, তিনি পুলিশের বেষ্টনী থেকে চিৎকার করে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপের সবকিছু মুছে ফেলার নির্দেশ দিচ্ছেন। যে উগ্রতা তিনি ছড়িয়েছেন, তা যেন প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, তারই চেষ্টা!
প্রশ্ন হলো, এ রকম আয়াস তো একজন নয়। যারা বাংলাদেশের মূল স্পিরিটকে ধূলিসাৎ করার জন্য মব সন্ত্রাসের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়েছে এবং জাতির জন্য অপমানজনক ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার ‘সময় বহিয়া যায়’। দুষ্ট দানবদের হাত থেকে জাতিকে মুক্ত করা খুবই প্রয়োজন।