সাক্ষাৎকার

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশের জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে

ড. এম শামসুল আলম একজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের অধ্যাপক ও ডিন এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা। তিনি অধ্যাপনা করেছেন রুয়েট ও চুয়েটে। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর অনেক গবেষণা প্রবন্ধ ও নিবন্ধ। সম্প্রতি এলপিজি সিলিন্ডারের উচ্চমূল্য ও সংকট; দেশের জ্বালানি সংকটের কারণ এবং সমাধানের উপায় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা

কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং এর সংকটের কারণ কী?

এ পরিস্থিতির জন্য সরকারই মূলত দায়ী, যেটা ১৯৮০ সাল থেকে শুরু। এ সময় থেকে কোনো জ্বালানি পরিকল্পনা না থাকাও মূল কারণ। সরকার তখন থেকেই মুনাফাভোগী এবং ব্যবসায়িক চরিত্র ধারণ করে। সরকারি কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুনাফার টাকা অপচয় ও তছরুপ করার জন্য নানাভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং প্রতিষ্ঠানগুলো অদক্ষ হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বড় বিষয়টা হচ্ছে, বেসরকারীকরণ ও ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাত উন্নয়ন করা কোনো ধরনের নীতি হতে পারে না। উন্নত দেশগুলো এ প্রক্রিয়ায় লাভবান হয়েছে। তারা টেকসই জ্বালানি খাত প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। তাদের এই অগ্রগতির পূর্ব শর্ত ছিল, রাষ্ট্রকে সেই সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সেই সক্ষমতা অর্জন করার জন্য সরকার ২০০৩ সালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠন করে। সেটা ২০০৮ সালে অপারেশনে যায়। এরপর ২০১১-১২ সালের দিকে ‘প্রতিযোগিতা কমিশন’ গঠন করা হয়। এর আগে সরকার ২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন এবং তার আওতায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই মূলত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং জ্বালানি খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার ব্যাপারে তৎপর থাকার কথা। একই সঙ্গে আইনের বিধিবিধানের অধীনে ক্ষমতার ব্যবহার নিশ্চিতভাবে কার্যকর করা। এরপর বিইআরসি সরকারি কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য করে।

তবে পরবর্তী সময়ে জ্বালানি খাত অবহেলার শিকার হয়। ফলে এ সেক্টরে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রকট আকার ধারণ করে। এই চিত্র প্রাথমিকভাবে এ সেক্টরে প্রথম সামনে আসে এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সেক্টরেও তা প্রকট আকার ধারণ করে। এসব কারণে কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে থাকে। সেই দাম বাড়ানোর কারণে ক্যাবের একটা মামলায় হাইকোর্ট কোড অব কনডাক্ট অবমাননার অভিযোগে তাদের কোর্টে হাজির হতে বাধ্য করেন। বিচারের মাধ্যমে, তাদেরকে গণশুনানির মাধ্যমে গ্যাসের নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণে বাধ্য করেন। পরবর্তী সময়ে বিইআরসি সেখান থেকে সরে যায়। এরপর তারা ওই সব কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে গণশুনানি বাদ দিয়ে দরজা বন্ধ করে দাম নির্ধারণ করতে থাকে। এসব ঘটনায় ধারাবাহিকভাবে আজকের দুরবস্থার চরম পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর আর কোনো ক্ষমতা নেই। রাষ্ট্র এখন আর সক্ষম নয়। জ্বালানি সেক্টরকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার কারণে এবং রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণে মনোপলি, ওলিগোপলি বিস্তৃত হয়েছে।

সরকার এখন কোনোভাবেই তাদের কোনো কথা শোনাতে পারছে না। একদিকে বাজার তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, অন্যদিকে সরকারও তাদের কাছে নিয়ন্ত্রিত। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে ভোক্তারা কতটা অসহায়, তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না।

আগের সরকারের সময় থেকে জ্বালানি সংকট ছিল। সে সময়ও গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকারও একই নীতিতে চলার কারণ কী?

ওই সময় থেকেই তো সংকটের শুরু। শুধু শুরু নয়, কাঠামোগতভাবে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এটা শুরু হয়েছিল। সেটারই ফলাফল এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেই ফলাফলের আমরা এখন শিকার হচ্ছি। ক্ষমতা পরিবর্তনের পরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের তো কোনো দল ছিল না। তাদের কোনো ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নেই। স্বজনপ্রীতির কোনো ব্যাপার নেই। মানে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাপার নেই। তাহলে এ সরকার কেন ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না? এই প্রশ্নটা সবচেয়ে কঠিন এবং জটিল। এই প্রশ্নের সমাধান যদি না করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। যেমন কয়েক দিন আগে ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম নিজেরাই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সরকার বলল, ব্যবসায়ীরা তাঁদের সঙ্গে কোনো কথা বলার প্রয়োজন বোধ করেননি। তারপরও সরকার তাঁদের কিছু বলেনি। তার মানে সরকার তাঁদের কাছে বশীভূত হয়ে গেছে।

এসব তো অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও হরহামেশা ঘটছে। অনেক পণ্যের দাম বাড়ানোর ব্যাপার তো সরকার দেখছে না। কিন্তু গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারণ করে দেওয়ার পরেও উচ্চমূল্যসহ সংকটের বিপর্যয় ঘটল, সেটা থেকে বোঝা যায়, সীমা এতটাই লঙ্ঘিত হয়েছে, যেটা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে চলে গেছে, সেটাই মর্মান্তিক।

বাংলাদেশের কোনো সরকারই নতুনভাবে গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ ও গুরুত্ব না দেওয়ার কারণ কী?

২০০৮-০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ পাইপলাইনে গ্যাস রপ্তানি করার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। কয়লা রপ্তানি বন্ধ করার জন্য দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে। সাগরের গ্যাস এলপিজিতে রূপান্তরিত করে রপ্তানি করার বিরুদ্ধে মাইলের পর মাইল ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করেছে। এসব করে আলটিমেটলি রপ্তানি ঠেকানো গেছে। কিন্তু সেই দেশই আবার জ্বালানি আমদানিকারক হয়ে গেল। অন্যদিকে দেশের মধ্যে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন এবং গ্যাসের মজুত কমে যাচ্ছে কিন্তু কোনো ধরনের গ্যাস অনুসন্ধানের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। গ্যাস অনুসন্ধান করার জন্য দেশের মানুষ তহবিল গঠন করে দিল। ২০২২ সালে দেখা গেল, সেই তহবিলের ৬৫ শতাংশ অর্থ পড়ে আছে। কোনো ব্যয় করা হয়নি। আরও দেখা গেল, গ্যাস অনুসন্ধান করার জন্য, কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের জন্য টাকাটা কাজে লাগানো হলো না। তাহলে এটা কি উদ্দেশ্যমূলক নয়?

সরকার নিজেই এভাবে রাষ্ট্রের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সরকারের মধ্যে সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা দেশটিকে আমদানিকারক বাজারে পরিণত করেছে এবং দেশকে এভাবে জ্বালানি সংকটে ফেলেছে। কমিশনভোগীরাও এই অপতৎপরতায় যুক্ত। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আমাদের দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকেরা দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। ফলে এসব ব্যাপার আমদানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে।

বিগত সরকার বিদ্যুৎ খাতকে আদানির হাতে তুলে দিয়েছিল। খেয়াল করলেই দেখা যাবে, বিদেশি ফার্নেস অয়েল ভালো মানের না, সেটা দূষণযুক্ত। সুতরাং সেটা আমদানির জন্য ১০ শতাংশ অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ দিয়ে ক্রয় করা হয়েছে। মানে ১০ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হয়েছে। এভাবে তাঁদের ব্যবসা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু ব্যবসায়ীরা এতে লাভবান হয়েছেন তা-ই নয়, যাঁরা এ কাজটা করার সুযোগ করে দিয়েছেন, তাঁদেরও পকেটে গেছে লাভের অংশ।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে গত সরকারের আমলে ১৭৬ ডলারে ৫ টন কয়লা তোলা হয়েছিল, যখন টেন্ডারের মাধ্যমে সেটা ১০০ ডলারে আমদানি করা হয়েছে। নিজের কয়লা নিজে যদি ৮০ শতাংশ বেশি দামে কিনতে হয়, তাহলে আমরা কোথায়, কীভাবে চলে গিয়েছিলাম, সেটা ভাবা দরকার।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমাদের দেশে এসে ব্যবসা করে সম্পদ লুট করেছে। এখন কত ধরনের বিদেশি কোম্পানি আমাদের লুণ্ঠন করছে, সেটা জ্বালানি খাতের দিকে তাকালে প্রমাণ পাওয়া যায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লুণ্ঠন করার জন্য একটি সরকার বসিয়েছিল মীরজাফরের নেতৃত্বে। সেই মীরজাফর এখন আমাদের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক হয়ে আছে। যেসব সরকার এ ধরনের কাজগুলো করে, তাদের কি মীরজাফরের সরকার বলা উচিত নয়? এ ধরনের মীরজাফরের সরকারের কারণেই দেশি ব্যবসায়ী এবং বিদেশি কোম্পানিগুলো জ্বালানি খাতে লুট করার সুযোগ পেয়েছে। জ্বালানি খাতই হলো তার প্রমাণ। আদানির চুক্তি বিশ্লেষণ করলে সেটার প্রমাণ পাওয়া যাবে। আবার সেই কোম্পানিগুলোই ভূ-রাজনীতির নামে এ দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

আমরা কি আমদানি করা জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি না? এই নির্ভরতা আমাদের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলছে বলে অভিযোগ আছে। এ থেকে আমরা কীভাবে মুক্তি পেতে পারি?

সম্প্রতি ক্যাবের যুব সংসদ সংবাদ সম্মেলনে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। জ্বালানি খাত সংস্কারের এই দাবিগুলোর মধ্যে আছে—বিদ্যুৎসহ জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি বিশেষ বিধান আইন রহিতকরণ-সংক্রান্ত ক‍্যাবের রিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা। এই আইনের আওতায় সম্পাদিত সব চুক্তি-লাইসেন্স বাতিল করা। সব ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা। বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে আবার সেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। সরকারি সেবা মুনাফামুক্ত নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ খরচভিত্তিক নিশ্চিত করা। জ্বালানি দক্ষতা-সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানের তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি আগামী সরকারের মেয়াদে কমপক্ষে ৫ শতাংশ কমানো। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত বৃদ্ধির মাধ্যমে এই পাঁচ বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো। ছোট শিল্প হিসেবে এই বিদ্যুৎ (সৌরবিদ্যুৎ) উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি পাঁচ বছরের জন্য রহিত করা। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করা।

আরও বলা হয়, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে গণশুনানির ভিত্তিতে স্থলভাগের শতভাগ গ্যাস বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানি দ্বারা শতভাগ অনুসন্ধান-উত্তোলন নিশ্চিত করতে হবে। গণশুনানির ভিত্তিতে ছাতক (পূর্ব) ও ভোলা/দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত গ্যাস ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। বিভিন্ন চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায় করতে হবে। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট দুর্নীতিসহ অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার করতে হবে।

জ্বালানি খাত ধ্বংস করার অপরাধীদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি এ সেক্টরে ব্যবসা করার জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। জনগণের জ্বালানি সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে—এসব করা গেলে দেশের জ্বালানি খাতের সমস্যা থাকবে না বলে আমার মনে হয়।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আজকের পত্রিকাকেও ধন্যবাদ।

নির্বাচন বড় মজার জিনিস

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কি অস্বস্তিগুলো কাটল

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও মেধাবীদের দীর্ঘশ্বাস

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কিছু কথা

পথের শেষ কোথায়, খেয়াল নেই

জাতীয় নির্বাচন এবং দুটি কথা

বিশ্ব কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে

অনেক কিছুই নির্ভর করছে সেনাবাহিনীর ওপর

আজকের জগৎটি অবিশ্বাস আর অনাস্থার

তিমিসমাজ যা শেখাতে পারে