২২ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ’ সম্মেলনে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ যখন ঘোষণা করেন, সরকার ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে চায় এবং এই লক্ষ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সরাসরি প্রস্তাব আহ্বান করছে, তখন অনেকের কাছে এটি পরিচিত ধরন মনে হওয়ারই কথা। এর কারণ, ২০০৯ সালের পর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঠিক একই ধরনের একটি ‘জরুরিভিত্তিক’ বেসরকারি সমাধান প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে সমাদৃত। আর সে কারণে আজও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বছরে ৪০ থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকার আর্থিক বোঝা হিসেবে রাষ্ট্রের ঘাড়ে চেপে বসে আছে।
২০০৯ সাল নাগাদ বিদ্যুতের তীব্র সংকট মোকাবিলায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’ পাস করে, যা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই স্বল্পমেয়াদি ভাড়াভিত্তিক (রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল) বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করার অনুমতি দেয় এবং এই সিদ্ধান্তগুলোকে আদালতে চ্যালেঞ্জের ঊর্ধ্বে রাখে। জরুরি সমাধান হিসেবে চালু হওয়া এসব কেন্দ্র সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’-এর নামে একটি স্থায়ী আর্থিক দায়ে পরিণত হয়। অর্থাৎ কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করুক বা না করুক, চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৮ হাজার কোটি টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অর্থবছরে তা ৩২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার এই খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে, যার সিংহভাগ ব্যয় হয় কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোতে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে পিডিবির মোট বিদ্যুৎ ক্রয়-ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ এখন শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ, যার পরিমাণ ৪৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এই ইতিহাস স্মরণ করার কারণ হলো, শুধু অতীতের ভুলের তুলনা নয়; বরং এই সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়ার মধ্যে সুনির্দিষ্ট মিল রয়েছে। প্রথমত, উভয় ক্ষেত্রে যুক্তির সূচনাবিন্দু একই—‘সরকার এই কাজ কার্যকরভাবে করতে পারছে না, তাই বেসরকারি খাতকে দিতে হবে’। এই যুক্তি ভুল নয়, কিন্তু তা প্রায়ই বিকল্প সমাধান (যেমন অভ্যন্তরীণ সংস্কার, ব্যবস্থাপনা চুক্তি) খতিয়ে না দেখেই সরাসরি মালিকানা হস্তান্তরের দিকে ঠেলে দেয়। দ্বিতীয়ত, উভয় ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক, আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের বদলে সীমিত ও অস্বচ্ছ নির্বাচনপ্রক্রিয়ার আভাস পাওয়া যায়—কুইক রেন্টালের ক্ষেত্রে তা ছিল আইন করে দরপত্র এড়ানো, আজকের ক্ষেত্রে সেটি ‘স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের’ কাছ থেকে সরাসরি প্রস্তাব আহ্বান, যার যোগ্যতা-মানদণ্ড এখনো জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়নি। তৃতীয়ত, উভয় সিদ্ধান্তই মূলত নির্বাহী পর্যায়ে—একটি সম্মেলনে ঘোষণা ও সরকারপ্রধানের ‘নীতিগত সম্মতি’র মাধ্যমে এগিয়েছে, সংসদীয় বিতর্ক কিংবা প্রকাশ্য পরামর্শ-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়।
চতুর্থত, সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো, ঝুঁকি বণ্টনের কাঠামোগত প্যাটার্নেও মিল আছে। কুইক রেন্টাল ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারীর আয় বাজারের চাহিদা বা কর্মক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত ছিল না। মানে ক্যাপাসিটি চার্জ নিশ্চিত ছিল, ঝুঁকি পুরোপুরি রাষ্ট্র ও ভোক্তার ওপর চাপানো হয়েছে। বিতরণ ব্যবসায় যদি শুল্কহার এমনভাবে নির্ধারিত হয় যে বেসরকারি অপারেটরের একটি নিশ্চিত মুনাফার হার (guaranteed rate of return) থাকে, অথচ প্রকৃত দক্ষতা কিংবা সেবার মানের সঙ্গে তার সম্পর্ক দুর্বল থাকলে একই কাঠামোগত সমস্যা—ঝুঁকিহীন মুনাফা, ভোক্তার ওপর চাপ নতুন রূপে ফিরে আসতে পারে। পঞ্চমত, উভয় ক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকে যায়, যে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো গত দেড় দশকে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল ও অন্যান্য বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুবিধাভোগী হয়েছে, স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া ছাড়া তারাই আবার বিতরণ খাতের নতুন সুবিধাভোগী হয়ে উঠবে কি না!
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা দরকার। উৎপাদনকেন্দ্রগুলো তাদের বিদ্যুৎ বিক্রি করে একটিমাত্র পাইকারি ক্রেতা পিডিবির কাছে; সাধারণ গ্রাহকের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বিতরণ কোম্পানি সরাসরি প্রতিটি পরিবার, দোকান ও কারখানার সঙ্গে সম্পর্কিত—মিটার রিডিং, বিল তৈরি, সংযোগ-বিচ্ছিন্নকরণ, অভিযোগ নিষ্পত্তি—সবকিছুর জন্য গ্রাহকের কাছে এটিই একমাত্র জানালা এবং গ্রাহকের সরবরাহকারী বদলানোর কোনো সুযোগ নেই। সে কারণে এখানে ব্যর্থতার সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্য অনেক বেশি এবং তাৎক্ষণিক। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ‘চেরি-পিকিং’ বা লাভজনক অংশ বেছে নেওয়ার ঝুঁকি। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো উচ্চ আদায়ক্ষম শহুরে এলাকা লাভজনক, কিন্তু পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন কোটি কোটি গ্রামীণ গ্রাহক, যাঁদের বিদ্যুৎ ব্যবহার কম, বিল আদায়ের ব্যয় তুলনামূলক বেশি এবং ভর্তুকির প্রয়োজন বেশি, তাঁদের এলাকা মুনাফার দৃষ্টিকোণ থেকে কম আকর্ষণীয়। নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, লাভজনক ও অলাভজনক এলাকার মধ্যে বৈষম্য বেসরকারীকরণের পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে যদি শহুরে লাভজনক সংস্থাগুলো (যেমন ডেসকো, ডিপিডিসি) আগে বেসরকারি করা হয় আর গ্রামীণ, লোকসানি অংশ রাষ্ট্রের ঘাড়ে থেকে যায়, তাহলে ক্রস-সাবসিডির যে ব্যবস্থায় শহরের রাজস্ব দিয়ে গ্রামের ঘাটতি পোষানো হতো, তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
বিতরণ ব্যবসার মূল রাজস্ব-প্রক্রিয়া তিনটি ধাপে চলে—মিটার রিডিং, বিল তৈরি এবং আদায়। এই তিনটি ধাপই এমন এক ‘তথ্য নিয়ন্ত্রণ বিন্দু’, যেখানে বেসরকারি অপারেটরের হাতে একচেটিয়া ক্ষমতা থাকে। তবে গ্রাহকের যাচাই করার সুযোগ সীমিত। দিল্লির ক্যাগ বিরোধে ঠিক এই জায়গাতেই অভিযোগ উঠেছিল, দ্রুতগতির মিটার ও সফটওয়্যার কারসাজির মাধ্যমে বিল বাড়ানো, ভোক্তার অভিযোগ যথাযথভাবে নথিভুক্ত না করা, স্ক্র্যাপ বিক্রি ও অন্যান্য হিসাবে অস্বচ্ছতা। বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ বিভাগ নিজেই সম্প্রতি স্বীকার করেছে, কিছু মাসে গ্রাহক পর্যায়ে ‘স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি’ বিদ্যুৎ বিল পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং বিতরণ সংস্থাগুলোকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রায়ত্ত কাঠামোতেই বিলিং-সংক্রান্ত আস্থার ঘাটতি বিদ্যমান। বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের পর যদি এই একই ঘাটতি অব্যাহত থাকে, অথচ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কোনো সত্যিকারের স্বাধীন, দ্রুত ও বিনা খরচার প্রক্রিয়া না থাকে, তাহলে গ্রাহকের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। কারণ, রাষ্ট্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে যতটা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা সম্ভব, লাভ সর্বোচ্চকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি বেসরকারি একচেটিয়া সংস্থার বিরুদ্ধে তা করা তুলনামূলক কঠিন।
এ কারণেই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে সফল বিতরণ বেসরকারীকরণের প্রতিটি দৃষ্টান্তে একটি স্বাধীন গ্রাহক-অভিযোগ কর্তৃপক্ষ অথবা শক্তিশালী নিয়ন্ত্রকের শুনানির ব্যবস্থা সমান্তরালে গড়ে তোলা হয়েছিল, কিন্তু নিছক বাজার প্রতিযোগিতার ওপর ভরসা করা হয়নি।
একটি উপেক্ষিত বিকল্প: মালিকানা না দিয়েও বেসরকারি দক্ষতা আনার মডেল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নীতি-আলোচনায় প্রায় অনুপস্থিত একটি মডেল হলো ভারতের ‘ডিস্ট্রিবিউশন ফ্র্যাঞ্চাইজি’ বা বিতরণ ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা, যার সবচেয়ে পরিচিত দৃষ্টান্ত মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডি শহর। ২০০৬-০৭ সালে ভিওয়ান্ডিতে কারিগরি ও বাণিজ্যিক লোকসান ছিল ৫৮ থেকে ৬০ শতাংশ, দৈনিক সাত-আট ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল নিয়মিত ঘটনা।
রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি এমএসইডিসিএল সম্পূর্ণ মালিকানা বিক্রি না করে একটি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে টরেন্ট পাওয়ারকে ১০ বছরের জন্য ‘ইনপুটভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি’ হিসেবে নিয়োগ দেয়। অর্থাৎ বিতরণ লাইসেন্স ও মূল মালিকানা রাজ্য কোম্পানির হাতেই থেকে যায়, কিন্তু বিলিং, রাজস্ব আদায়, রক্ষণাবেক্ষণ ও মূলধনি বিনিয়োগের দায়িত্ব বেসরকারি অংশীদারের হাতে ন্যস্ত হয়। ফলে নির্দিষ্ট লোকসান-হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ভিত্তিতে তার পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয়। তাই ফলাফল দাঁড়ায়, লোকসান ১০ বছরে ৫৮ শতাংশ থেকে নেমে ১২ শতাংশের কাছাকাছি চলে আসে এবং চুক্তিটি পরবর্তী সময়ে নবায়িতও হয়। উত্তর প্রদেশের আগ্রা শহরেও একই মডেলে সাফল্য মিলেছে।
এই মডেল আজকের বাংলাদেশের প্রশ্নগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের সরাসরি জবাব দেয়। যেহেতু মালিকানা ও লাইসেন্স রাষ্ট্রের হাতেই থাকে, সে কারণে একটি কৌশলগত জাতীয় অবকাঠামো স্থায়ীভাবে বেসরকারি হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না; চুক্তির মেয়াদ শেষে কিংবা লক্ষ্যমাত্রা অপূর্ণ থাকলে সরকার সহজে দায়িত্ব পুনরুদ্ধার করতে পারে। কর্মীরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে মর্যাদা বজায় রেখেই বেসরকারি অংশীদারের অধীনে কাজ করতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নির্বাচনপ্রক্রিয়া প্রকৃতপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক এবং লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক হওয়ায় একক অনাহূত প্রস্তাবের ঝুঁকি এড়ানো যায়।
প্রথমে সংসদে বিতর্ক এবং একটি প্রকাশ্য নীতি-দলিল (শ্বেতপত্র বা কনসালটেশন পেপার) প্রকাশ করা, যাতে সিদ্ধান্তের যুক্তি, ঝুঁকি ও বিকল্প বিশ্লেষণ জনসমক্ষে আসে।
‘স্থানীয় বিনিয়োগকারী’দের অনাহূত প্রস্তাবের বদলে আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আয়োজন করা, যেখানে আর্থিক সক্ষমতা ও কারিগরি অভিজ্ঞতার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড আগেই প্রকাশ করা হবে।
যেকোনো হস্তান্তরের আগে বিইআরসিকে প্রকৃত আইনি স্বাধীনতা ও প্রয়োগ-ক্ষমতা দিয়ে শক্তিশালী করা।
সম্পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তরের বদলে একটি বা দুটি তুলনামূলক লোকসানি বিতরণ অঞ্চলে ভিওয়ান্ডি ধাঁচের লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল পাইলট আকারে প্রয়োগ করে ফলাফল যাচাই করা।
সম্পদ, দায়-দেনা ও কর্মী-স্বার্থসংক্রান্ত একটি স্বচ্ছ, প্রকাশ্য রূপান্তর-কাঠামো আগেভাগে চূড়ান্ত করা।
গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ক্রস-সাবসিডি ও ভর্তুকি সুরক্ষাব্যবস্থা চুক্তিতেই অন্তর্ভুক্ত করা।
দিল্লির ক্যাগ বিরোধ থেকে শিক্ষা নিয়ে শুরু থেকে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষ নিরীক্ষা ও তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা।
বাংলাদেশ এরই মধ্যে একবার প্রমাণ করেছে, ‘জরুরি ভিত্তিতে বেসরকারি সমাধান’-এর আকর্ষণীয় যুক্তি কীভাবে দুর্বল প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিশে একটি দীর্ঘমেয়াদি, অস্বচ্ছ ও ব্যয়বহুল কাঠামোতে পরিণত হতে পারে, কুইক রেন্টাল তার জীবন্ত উদাহরণ। বিতরণ খাতের সংস্কার সত্যিকারের প্রয়োজন, কিন্তু সেই প্রয়োজন পূরণে ‘পূর্ণ বেসরকারীকরণ’ একমাত্র বা এমনকি সবচেয়ে নিরাপদ পথও নয়। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন-প্রক্রিয়া, শক্তিশালী স্বাধীন নিয়ন্ত্রক, স্বচ্ছ রূপান্তর-কাঠামো এবং মালিকানা না দিয়ে দক্ষতা আনার ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের মতো বিকল্পগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা না করে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হলে বাংলাদেশ নতুন এক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যার মূল্য শেষ পর্যন্ত গুনতে হবে সাধারণ গ্রাহকদেরই।
এম এম মুসা, উন্নয়নকর্মী ও গবেষক