তুহিন খান একজন লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনের ব্যাপারে তিনি বিরোধিতা করেছেন। এনসিপির জোট গঠনের সিদ্ধান্ত, দলটির আদর্শ এবং দল থেকে কয়েকজন নেতার পদত্যাগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপ করেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা।
এনসিপি শুরুতে এককভাবে ৩০০ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও শেষ মুহূর্তে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করল। এই আকস্মিক পরিবর্তনের মূল রাজনৈতিক কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?
এনসিপির নেতারা জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার দুটি কারণ বলছেন—হাদি হত্যাকাণ্ডের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সংস্কার প্রশ্নে জামায়াতের অধিকতর অনুকূল অবস্থান। আমি বলব, দুটি কারণই রেটরিকমাত্র। কারণ, হাদি হত্যাকাণ্ডের রহস্য কি সরকার এখনো বের করতে পেরেছে? না পারলে এনসিপির এই নেতারা জামায়াতের সঙ্গে জোট করেই নিরাপত্তার গ্যারান্টি পান কীভাবে? ঠিক কী ধরনের নিরাপত্তা চান তাঁরা? আর হাদির মতো যাঁরা? তাঁরা কার সঙ্গে জোট করে নিরাপত্তা নেবেন? নিরাপত্তার অজুহাতটা হাস্যকর। আপনি কোনো জাতীয় নেতাকে কখনো বলতে শুনেছেন যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে আমি অমুকের সঙ্গে জোটে যাচ্ছি? তাঁরা নিরাপত্তা নিয়ে এত উদ্বিগ্ন থাকলে জাতিকে নেতৃত্ব দেবেন কীভাবে?
সংস্কারের ব্যাপারে তো গত ১৯ অক্টোবর নাহিদ ইসলাম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জামায়াতের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, জামায়াত সংস্কারকে নিজেদের ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের জন্য দর-কষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। এক-দেড় মাসের মধ্যে সংস্কার প্রশ্নে কী এমন অগ্রগতি হলো? আসলে এই জোটের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে ৫ আগস্টের পরপরই। এখন জোটটা হচ্ছে, কারণ, গত এক বছরে এনসিপি কোনো জনঘনিষ্ঠ, পলিসিনির্ভর ও শক্তিশালী পার্টি হয়ে উঠতে পারেনি। বরং পার্টি হওয়ার আগেই তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করে গেছে। ফলে নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় তারা এখন তড়িঘড়ি করে কিছু আসন সিকিউরড করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। এনসিপির অনেক নেতা নিজ নিজ আসনে অনেক আগে থেকেই জামায়াতের সঙ্গে একধরনের নির্বাচনী সমঝোতায় চলে গেছেন। আবার শুরু থেকেই জামায়াত এনসিপিতে নিজেদের লোক অনুপ্রবেশ করিয়েছে, যা বিদ্রোহী ৩০ নেতার আপত্তিপত্রেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এনসিপির জামায়াতপন্থী এই গ্রুপটির একক আকাঙ্ক্ষায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে ধরে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।
সংস্কার ও নতুন সংবিধানের প্রশ্নে এনসিপি তাদের আকাঙ্ক্ষাকে জামায়াতের একাত্তরকে রিপ্লেস করার আকাঙ্ক্ষা থেকে আলাদা করতে পারেনি—তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে। তাই সংস্কার প্রশ্নে এনসিপির আলাদা কোনো রাজনীতি দাঁড়ায়নি। ফলে জামায়াতের রাজনীতিই হয়ে গেছে এনসিপির রাজনীতি।
এনসিপি বলছে এটি কেবল একটি ‘নির্বাচনী সমঝোতা’, কোনো ‘আদর্শিক ঐক্য’ নয়। রাজনীতির মাঠে কি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কেবল কৌশলগত ঐক্যের মাধ্যমে জনসমর্থন ধরে রাখা সম্ভব?
‘নির্বাচনী সমঝোতা’ই সাধারণত হয় বাংলাদেশে। এর আগে বিএনপি বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যখন জোট হয় জামায়াতের, সেটাও এমনই ছিল। ‘আদর্শিক’ ছিল না। কিন্তু আপনি খেয়াল করেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন যে জোট, তার প্রচারণা কিন্তু আদর্শিক। ‘ইসলামপন্থীদের ভোট একবাক্সে আনা’। এনসিপি তো সেই জোটেই গেছে, তাই না? জামায়াতের ভোটের প্রচারণাও কিন্তু আদর্শিক। অন্যদিকে এনসিপির আদর্শ কী, সেটা স্পষ্ট নয়। তাহলে এখানে কে বেশি শক্তিশালী, বলুন? আর শক্তিশালী দুর্বলকে খেয়ে ফেলে। জোট যে কারণেই হোক, আদর্শিক বা নির্বাচনী—সেটা ভোট বা প্রচার-প্রচারণা বা পলিটিক্যাল বয়ানকে যেমন প্রভাবিত করে, তেমনি দলের আদর্শিক অবস্থানকেও করে। তৃণমূলে পার্টির পজিশনকেও প্রভাবিত করে। নইলে জোট কার্যকর হয় না। এর নজির ভূরি ভূরি। ফলে এনসিপি যতই বলুক এটা নির্বাচনী জোট, আদতে এই জোটের প্রভাব কেবল নির্বাচনে সীমিত থাকবে না।
জামায়াতের মতো একটি সুসংগঠিত দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া কি এনসিপির মতো একটি দলের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, নাকি এটি বড় কোনো শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কৌশল?
এনসিপির দিক থেকে ব্যাপারটা দুই ধরনের। প্রথমত, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই তো বটেই। নিজেদের দল গড়তে না পারা সত্ত্বেও ক্ষমতায় গিয়ে সেফ থাকার রেডিমেড ও শর্টকাট সমাধান। দ্বিতীয়ত, এটা আসলে ভবিতব্যও ছিল কিছুটা। শুরু থেকেই এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা জামায়াতকে তাঁদের ন্যাচারাল অ্যালাই হিসেবে দেখেছেন, সেভাবেই ট্রিট করেছেন। জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে যুক্ত অনেক জনশক্তিই এনসিপি ও এর ছাত্রসংগঠনে ছিল, এখনো আছে। সময়ে সময়ে তাঁরা পদত্যাগও করেছেন। ৫ আগস্টের পর থেকেই সংস্কার, রাজনীতি বা অন্যান্য প্রশ্নে এনসিপি জামায়াত থেকে আলাদা হতে পারেনি নানা কারণে। ফলে নির্বাচনেও যে তারা একত্রে যাবে, এটা ভবিতব্যই ছিল। এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিজেদের জামায়াতের কাছাকাছি বিকল্পের একটা দল হিসেবে কল্পনা করছেন। ফলে এই জোট হওয়ারই কথা ছিল আসলে।
জামায়াতের সঙ্গে এই সমঝোতার ফলে এনসিপির ভেতর বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল কি দলটির ভবিষ্যৎকে সংকটে ফেলবে না?
অবশ্যই। এটা এনসিপির জন্য বড় সংকট তৈরি করবে। এনসিপি যে ‘মধ্যপন্থী’ ইমেজ তৈরি করতে চাইছিল, এই ভাঙনের ফলে সেটা সংকটে পড়বে। এই ভাঙন হয়তো এনসিপিকে একটা ডানপন্থী ছোট দলে পরিণত করবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতির উন্মেষ ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, এর ফলে কি সেই আকাঙ্ক্ষা প্রশ্নবিদ্ধ হলো?
তা তো হলোই। এই জোট কেবল নির্বাচনী জোট হিসেবে আর থাকছে না দিন শেষে—এর একটা প্রতীকী অর্থ আছে। সেটা হচ্ছে, জুলাইয়ের নেতারা জামায়াতের সঙ্গে গেলেন। জামায়াতকেই তাঁরা বেশি সংস্কারপন্থী মনে করলেন। জামায়াতই তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিল ইত্যাদি।
জামায়াত আগস্টের পর থেকেই এই আন্দোলনকে তার ব্রেন চাইল্ড বানানোর চেষ্টা করে গেছে। এই জোটের ফলে সে এই চেষ্টা আরও জোরেশোরে করতে পারবে। ভোটের মাঠেও এই প্রচারণা চালিয়ে ফায়দা তুলতে পারবে। এর ফলে জুলাইয়ের নেতাদের নিয়ে যেসব প্রশ্ন বা ন্যারেটিভ রাজনীতির মাঠে তৈরি হয়ে আছে, তা হালে পানি পাবে। এটাকে পুঁজি করে খোদ জুলাইকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ পাবেন অনেকে। সবচেয়ে বড় কথা, বাইনারির বাইরে গিয়ে ওল্ড স্কুল পলিটিকসকে প্রত্যাখ্যান করে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল বিপুল মানুষ, এনসিপি তা পূরণে ব্যর্থই হলো আপাতত বলা চলে।
অনেকে বলছেন, এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াতের ‘বি টিম’ বা তাদের রাজনৈতিক ছায়ায় বিলীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। এই আশঙ্কাকে আপনি কতটুকু যৌক্তিক মনে করেন?
জামায়াতের সঙ্গে জোটের ঝুঁকি হলো, জামায়াত আপনার সংগঠনে অনুপ্রবেশ করে। ভেতর থেকে আপনার সংগঠনকে দুর্বল করে ফেলে। কারণ, তার রাজনীতির ধরনই এমন। সে বিপ্লবী চিন্তাধারার পার্টি। বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ধারার দল সে না। ফলে এ ধরনের ঝুঁকি তো ষোলো আনাই আছে। এনসিপি খুব শক্তিশালী দলও না, যে সেটা রেজিস্ট করতে পারবে। তদুপরি শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কারও কোনো পিছুটান আছে কি না, সেটাও একটা ব্যাপার। শেষমেশ জামায়াতের বৃত্তে বন্দী একটা দল হওয়াই হয়তো এনসিপির নিয়তি হবে। বা এনসিপিও হয়তো সেটাই চায়। তবে এগুলো বড় ব্যাপার নয়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এনসিপির ব্যাপারে মানুষের বিশ্বাসটা নষ্ট হয়ে গেছে। এটা শুধু জামায়াতের সঙ্গে জোটের ইস্যু না। নানা কারণেই এই তরুণ নেতাদের রাজনীতির ধরনের ব্যাপারে মানুষের একটা ভয় ও বিরক্তি তৈরি হয়েছে।
‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠন’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের যে স্বপ্ন এনসিপি দেখিয়েছিল, জামায়াতের রক্ষণশীল আদর্শের সঙ্গে সেই সংস্কারের সমন্বয় কীভাবে সম্ভব?
দেখুন, ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ বা ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ কথাগুলো কিন্তু ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। জামায়াতও তো সেকেন্ড রিপাবলিক চায়, বাহাত্তরের সংবিধানকে বাতিল করে একটা নতুন সংবিধানের দিকে যেতে চায়—তার নিজের একাত্তরের দায় মোছার জন্য। ফলে কে কী চায় এবং কেন চায়—এই প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবাটা জরুরি।
এনসিপির চাওয়াটা হয়তো ভালোই ছিল। আমরাও রাষ্ট্র সংস্কার চেয়েছি, সংবিধান সংস্কার চেয়েছি। কিন্তু চাওয়াটা প্রধান বিষয় নয়। কী চাই এবং তা পাওয়ার সক্ষমতা কতটুকু—এটা মাপতে পারা জরুরি। এনসিপি তো সেটা করেনি। তারা নিজেদের সক্ষমতা যাচাই না করেই এসব দাবি নিয়ে মাঠ গরম করেছে; অন্যের খেলার পন (দাবার ঘুঁটি) হয়েছে। শুরু থেকেই জামায়াতের চাওয়ার সঙ্গে নিজেদের চাওয়াকে আলাদা করতে পারেনি তারা, বা হয়তো চায়ওনি। তারা কেন সেকেন্ড রিপাবলিক চায়, কী ধরনের সংস্কার চায়, কেমন সংবিধান চায়—এসব তারা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে পারেনি।
গণ-সার্বভৌমত্ব বা ‘পপুলার সভরেইন্টি’র ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পরে বিশ্বের বহু দেশে রিপাবলিক বা সেকেন্ড রিপাবলিক তৈরি হয়েছে। সংবিধান সংস্কার হয়েছে। কিন্তু জামায়াত তো ‘হাকিমিয়্যাহ’ বা ‘ডিভাইন সভরেইন্টি’তে বিশ্বাস করে। সে তো ‘পপুলার সভরেইন্টি’ বা ‘গণতন্ত্র’-তে বিশ্বাস করে না। কিন্তু রিপাবলিকে বিশ্বাস না করেও সে সেকেন্ড রিপাবলিক চায়, কারণ, বাহাত্তরের সংবিধানটা তার বাতিল করা দরকার। হলে ভালো আরকি তার জন্য।
এনসিপি জামায়াতের এই রাজনীতি থেকে নিজেদের আলাদা করতে পারেনি। বা তাদের ওপর মানুষ আসলে ওই বিশ্বাসটা রাখতে পারেনি। ফলে সংস্কার নিয়ে জামায়াতের অবস্থানও দেখবেন বেশ গা-ছাড়া। দলটি কোনো সংস্কারেরই পক্ষে বা বিপক্ষে খুব দৃঢ় অবস্থান নেয়নি। আসলে এই সংস্কার বা জুলাই সনদটা জামায়াতের কাছে শুরু থেকেই ছিল একটি নির্বাচনী রাজনৈতিক টুল। এনসিপির কাছেও এখন তা-ই। এই টুল ব্যবহার করে তারা নিজেদের ভোটের মাঠে লাভবান করবে। রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে যা যা হয়েছে, যেভাবে জুলাইয়ের পর জুলাই সনদ হলো, সেটা কি নতুন কোনো পন্থা? বেশি ইনক্লুসিভ কিছু? না তো। সেই পুরোনো অভিজাতদেরই পুরোনো সেটেলমেন্টের রীতিতে সব হয়েছে।
ফলে স্বভাবতই যে জুলাই হতে পারত গণতন্ত্রের প্রগতিশীল বিকাশের পথে একটা ধাপ, সে জুলাই পরিণত হয়েছে নতুনদের পুরোনো বন্দোবস্তে প্রবেশের একটা পথ হিসেবে। ফলে সমন্বয়ও সম্ভব না আসলে। এনসিপি যখনই তার নিজস্ব রাজনীতি, আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের চর্চা করতে যাবে, তখনই জামায়াতের সঙ্গে তার ক্ল্যাশ অবশ্যম্ভাবী।
সবচেয়ে বড় কথা, এই এনসিপি-জামায়াত জোটের রাষ্ট্রকল্প কী—তা অস্পষ্ট। কেমন রাষ্ট্র তারা চায়, সেটা কেবল কাগুজে ডকুমেন্টের ব্যাপার না। বরং কর্মসূচিই আসলে প্রমাণ করে—কে কী চায়। গত এক বছরে রাষ্ট্র ও সমাজে নেতিবাচক যা যা দেখলাম আমরা, এটার ব্যাপারে এই জোটের বক্তব্য কী? দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা কী? চাকরিবাকরি নিয়ে? বেকার সমস্যা নিয়ে? নাগরিক অধিকার প্রশ্নে? রাষ্ট্রের ঠিক কেমন সংস্কার তারা চায়? আগে পুরোনোরা দেশ চালিয়েছে, এখন নতুনরা চালাবে—এটা কোনো সংস্কার না। নতুনদের ভিশন কী, তা না জানলে, না বুঝলে, লোকে কেন তাদের ভোট দেবে?
এনসিপির আদর্শিক ভিত্তি নড়বড়ে। জামায়াত তার আদর্শিক অবস্থানের কোনো কংক্রিট পর্যালোচনা উপস্থাপন না করেই রেটরিকের রাজনীতি করে যাচ্ছে। গত এক বছরের কর্মকাণ্ডে জনতার কাছে ঠিক কী ভিশন পৌঁছিয়েছে এনসিপি-জামায়াত জোট বা আদৌ পরিষ্কার কোনো বার্তা তারা দেশবাসীকে দিতে পারল কি না—আমি নিশ্চিত না। এনসিপি ক্ষমতার রাজনীতির পুরোনো ধারায় কয়েকজন নতুন ব্যক্তি দিতে পারবে হয়তো। সেকেন্ড রিপাবলিক বা নতুন সংবিধান দিতে পারবে না।