হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

সন্তানের হাতে স্ক্রিন, মনে কি একটু আকাশ আছে?

মো. সুলতান উদ্দীন

লেখক মো. সুলতান উদ্দীন। ছবি: সংগৃহীত

সন্তানের হাতে আমরা স্মার্টফোন তুলে দিয়েছি, কিন্তু তার হাতে কি সময় তুলে দিতে পেরেছি? তাকে ইন্টারনেটের বিশাল জগতের সঙ্গে যুক্ত করেছি, কিন্তু তার নিজের ঘরের মানুষগুলোর সঙ্গে কতটা যুক্ত রাখতে পেরেছি? সে পৃথিবীর দূরপ্রান্তের মানুষের জীবন দেখতে পাচ্ছে, অথচ পাশের ঘরে বসে থাকা দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে গল্প করার সময় যেন ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

এটাই হয়তো আমাদের সময়ের সবচেয়ে নীরব প্রশ্ন।

প্রযুক্তি আমাদের সন্তানদের শত্রু নয়। বরং তা জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও যোগাযোগের নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। কিন্তু দরজা খুলতে গিয়ে যদি আমরা ঘরের জানালাগুলো বন্ধ করে দিই, তাহলেই তৈরি হয় সমস্যা। শিশুর চোখ স্ক্রিনে থাকবে, অথচ মন থাকবে একাকী—এমন ভবিষ্যৎ কোনো পরিবারই নিশ্চয়ই চায় না।

আজকের শিশু আগের যেকোনো প্রজন্মের তুলনায় বেশি তথ্য জানে। কিন্তু তথ্য জানা আর জীবন বোঝা এক বিষয় নয়। সে হয়তো কয়েক সেকেন্ডে পৃথিবীর অন্য প্রান্তের একটি ঘটনা জানতে পারে, কিন্তু একজন অসুস্থ মানুষের পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, বন্ধুর কষ্ট কীভাবে বুঝতে হয়, পরাজয় কীভাবে মেনে নিতে হয় কিংবা নিজের ভুলের জন্য কীভাবে ক্ষমা চাইতে হয়—এসব শেখার জন্য কোনো অ্যাপ নেই।

এই জায়গাতেই প্রয়োজন সুকুমার বৃত্তির চর্চা।

একটি শিশুর সুন্দর মন একদিনে তৈরি হয় না। কবিতা শুনে, গল্প পড়ে, গাছের নিচে বসে, বন্ধুর সঙ্গে খেলতে খেলতে, অসহায় কাউকে সাহায্য করতে গিয়ে, মায়ের মুখের গল্প শুনে কিংবা বাবার সঙ্গে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হাঁটতে শিশুর ভেতরে মানবিকতার বীজ জন্ম নেয়। কিন্তু আমাদের ব্যস্ত জীবনে এসব ছোট ছোট মুহূর্তই যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

আমরা সন্তানকে দামি পোশাক দিচ্ছি, ভালো স্কুলে পড়াচ্ছি, আধুনিক ডিভাইস কিনে দিচ্ছি; কিন্তু তাকে কতটা সময় দিচ্ছি—সন্তানকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে?