হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রা

সম্পাদকীয়

মৃত্যু জেনেও পতঙ্গ যেভাবে আলোর দিকে এগিয়ে যায়, তেমনি ইউরোপে গিয়ে ভাগ্য বদলাতে আমাদের দেশ থেকে মানুষ পাড়ি দেয় বন্ধুর পথ। খুবই বেদনাদায়ক একটি সংবাদ দেখা গেছে আজকের পত্রিকায়। গত শুক্রবার গ্রিস উপকূলে নৌকাডুবিতে মারা গেছেন ১৮ থেকে ২০ জন বাংলাদেশি। আরও আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, প্রতিবছর লিবিয়া থেকে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার সময় অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যান।

অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার এই প্রবণতা আজকের নয়। বেকার সমস্যা সমাধানে মরিয়া হয়ে অনেকে এই পথ বেছে নেন। উপযুক্ত তথ্যের অভাবে কেউ কেউ দালালদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারান। ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার গ্যারান্টিসহ যেসব দালাল সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাদের ব্যাপারে সচেতনতার অভাব এসব মৃত্যুর মূল কারণ। বছরের পর বছর দালাল এবং মানব পাচার চক্রের কবলে পড়ে সাগরে প্রাণহানি, অপহরণ এবং মুক্তিপণের জন্য আটক অভাগা মানুষ নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছেন। অবৈধ পথে এই মানব পাচারের মাধ্যমে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আয় করা যায় বলে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

একজন মানুষ কখন তাঁর বহু কষ্টে জমানো টাকা দালালের হাতে দিয়ে দেন? পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি আনার স্বপ্নই একজন মানুষকে এ রকম মোহগ্রস্ত করে তোলে। দালালেরাও টাকা পাওয়ার আগে এমন ব্যবহার করে, যাতে মনে হয়, ইউরোপে যাওয়া কোনো ব্যাপারই নয়। লিবিয়া কিংবা অন্য কোনো দেশে কিছুকাল অবস্থান করার পর অনায়াসে ইউরোপের কোনো দেশে গিয়ে কাজকর্ম করা সম্ভব। অথচ অবৈধভাবে সেই ট্রানজিট রুটে যাওয়ার পরই বোঝা যায়, কোন ধরনের অমানবিক পরিবেশ তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে। যাঁরা বেঁচে ফিরেছেন, তাঁদের কাছ থেকে অনেকে সেই অবিশ্বাস্য ‘অ্যাডভেঞ্চার’-এর কথা শুনেছেন। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা কতটা ভয়াবহ, তা সবাই উপলব্ধি করতে পারেন, তা বলা যাবে না।

সমুদ্রপথে নৌকায় করে ইউরোপের দিকে গেলেই ইউরোপিয়ানরা ভিসা দেওয়ার জন্য নিশ্চয় তাঁদের সাদর অভ্যর্থনা জানান না। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে যেকোনোভাবে ইউরোপীয় কোনো দেশে (যদিও এখন ইতালির পথটির কথা বেশি বলা হয়) পৌঁছাতে পারলেই প্রাথমিকভাবে বেঁচে গেলেন বলে মনে করেন কেউ কেউ। কিন্তু সেখানেও কতটা মানবেতর জীবন কাটাতে হয়, সে কথাও এখন আর টপ সিক্রেট নয়। এ যেন শাঁখের করাত। ইউরোপে যাওয়ার সময় মাঝপথেই নৌকাডুবি, ছিনতাই, অপহরণসহ কত ধরনের কাণ্ডের পর অবৈধ বসবাসের যন্ত্রণা!

সরকারি ও বেসরকারিভাবে মানব পাচারের ভয়াবহতার বিষয়ে প্রচার চালানো খুব জরুরি। নিরাপদ উপায় অর্থাৎ সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে কাজের ভিসা নিয়ে, শিক্ষার্থী হলে বৈধ ভিসা নিয়ে কিংবা দক্ষ কর্মী হিসেবে ভিসা নিয়েই তারপর বিদেশে যাওয়া উচিত। অভিবাসনের প্রক্রিয়া সমগ্র পৃথিবীতে অনেক বেশি কঠোর হয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যজনক কোনো কিছু যেন না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই।

পুরুষের মতো নয়, মানুষের মতো

হাসান হাফিজুর রহমানের সাহিত্য-প্রচেষ্টা

একাত্তরে গণহত্যা: মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব বাংলাদেশের কূটনৈতিক অর্জন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কোথায় গিয়ে দাঁড়াল

গোদাগাড়ী প্রেসক্লাব

বাসাভাড়া ২৪ ঘণ্টার, গেট কেন রাত ১১টার পর বন্ধ

নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

বিচারব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা কাম্য

দাহকাল উতরানো কতটা সহজ

অটুট মনোবল অটুট স্বাধীনতা