হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

আজ ভোট উৎসব

সম্পাদকীয়

আজ জাতীয় নির্বাচন। বহু ঘটনা-অঘটনের মধ্য দিয়ে দেশ আজ নির্বাচনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আশা-নিরাশার দোলায় দুলতে দুলতে দেশের জনগণ আজ তাদের রায় জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়েছে। আজকের দিনটিতে দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসবে। তারই অপেক্ষায় রয়েছে মানুষ।

৫ আগস্টের পালাবদলের পর থেকে যত ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তার অনেকই ছিল অবিশ্বাস্য। যে আশায় জনগণ বুক বেঁধেছিল, তার অনেকটাই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আর এক রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক, মোটাদাগে বলতে গেলে, অসহনশীল ছিল। আওয়ামী লীগকে ভোটের মাঠ থেকে দূরে রাখায় একসময়ের দুই জোটসঙ্গী বিএনপি আর জামায়াতে ইসলামী একে অন্যের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তারাই তৈরি করেছে দুই জোট।

এই নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা মোটেও আশাপ্রদ নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে না, যা নির্বাচনের গুরুত্ব কিছুটা হলেও কমিয়ে দেবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা থেকে দেশকে বের করে আনতে পারলে সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে।

জাতি আজ এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতি যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক না হয়, তবে দেশে বহুমত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে না। লক্ষ করে দেখা গেছে, নির্বাচিত ও অনির্বাচিত সব সরকারই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ইত্যাদির কথা বলে থাকে, কিন্তু সে স্বাধীনতা তারা নিজেরাই পছন্দ করে না। গণতন্ত্রে সবার মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হয়। আমাদের দেশের ধারাবাহিক ইতিহাসে সেই স্বাধীনতা বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই অবস্থার অবসান দরকার।

নির্বাচনে যে দলই বিজয়ী হোক না কেন, যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, তারা পুরো দেশের মানুষের সরকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে—এ কথা যেন মনে রাখে। নির্বাচন-উত্তর সহিংসতা এড়ানোর জন্য যেন সবার সম্মিলিত প্রস্তুতি থাকে। এ ব্যাপারে দলগুলোর মধ্যে অঙ্গীকার থাকা দরকার। বিজয়ী দলকে যেন পরাজিত দল স্বাগত জানায়, এই কামনা থাকবে। ভোট গণনায় কোনো মতলব যেন কাজ না করে।

দেশের রাজনীতি জনগণের সেবা করার জন্যই। পুরোনো বা নতুন বন্দোবস্তের কোনোটাই পেশিশক্তির বিরুদ্ধে খুব আস্থার সঙ্গে দাঁড়াতে পারেনি। জনগণের সেবার বদলে নিজের সেবা করার যে রীতি দাঁড়িয়ে গেছে, তা থেকে দেশ বের হয়ে আসবে কি না, সে পরীক্ষাও রয়েছে সামনে। জনগণ এবার খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করবে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সত্যিই কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন এল কি না। সব ক্ষমতার উৎস জনগণ—এই কথা নির্বাচনের দিনটির জন্য যতটা সত্য, বাকি সময়ের জন্য ততটা নয়। এই অসহনীয় ঐতিহ্যের যেন অবসান ঘটে, সেটাই জনগণের কামনা।

দেশের প্রতিটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যা যা করা উচিত, তা যেন করা হয়—এটাই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার।

গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা সুষ্ঠু নির্বাচন

পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে এর গুরুত্ব

নতুন শুরুর অপেক্ষায়

দ্বন্দ্ব ছিল, দ্বন্দ্ব থাকবেই

৫ টাকার অফিসার ও ভোট গ্রহণে টিমওয়ার্ক

জ্যামিতি, বিজ্ঞান ও সমাজ

নিছক ছোট একটি ঘটনা

ভাষা, ব্যাকরণ ও ছাগল

অঙ্গীকারের মেঘ ঝরুক প্রাপ্তির বৃষ্টি হয়ে

নির্যাতন