হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

সুচিত্রা সেন

সম্পাদকীয়

মানুষের মনে হাহাকার তুলে রয়ে যান। পাবনায় জন্ম এই কিংবদন্তি নায়িকার। বেঁচে থাকলে তিনি এ বছর ৯৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করতেন। কিন্তু তাতে কি ভক্তরা তাঁর দেখা পেতেন? খ্যাতির মধ্যগগনে থাকতেই একদিন হঠাৎ করে তিনি চলে গিয়েছিলেন পর্দার অন্তরালে। এর পর থেকে কখনো জনসমক্ষে তাঁকে আর দেখা যায়নি। একান্ত কাছের মানুষেরাই তাঁর দেখা পেতেন, আর কেউ নয়।

সাংস্কৃতিক মনন যদি দৃঢ় হয়, তাহলেই শুধু গুণীর কদর করার মতো উদার হয়ে ওঠে মন। এ জন্য মানস গঠন জরুরি। কারও মনকে যদি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, শ্রেণি, রাজনীতি ইত্যাদির মধ্য দিয়ে বিভেদের কারখানায় পরিণত করা হয়, তাহলে জগতের এই বিশালতা তার দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। সাংস্কৃতিকভাবে ঋদ্ধ হওয়া আর হয়ে ওঠে না।

এই আলোচনাগুলো এখন আবার নতুন করে হওয়া দরকার। ধর্মকে বড় করতে গিয়ে একসময় দেশবিভাগ হয়েছিল। হিন্দু আর মুসলমান পরিণত হয়েছিল পরস্পর শত্রুতে। আদিকাল থেকে বিভিন্ন ধর্মে বিভক্ত বাঙালি বসবাস করত একই সঙ্গে। পরস্পরের সঙ্গে হানাহানি, ভেদাভেদ কখনো ছিল না তাদের। ভারতবর্ষের রাজনীতিতে পাল-সেন, নাকি মোগল-পাঠান, নাকি ইংরেজরা এসে শাসন করে যাচ্ছিল, তা নিয়ে ভারতবর্ষের গ্রামসমাজে কোনো আলোড়ন সৃষ্টি হয়নি। বিংশ শতাব্দীতে এসে ধর্মে ধর্মে হানাহানি বেড়ে গেল। ব্রিটিশ শাসকেরা কখনো হিন্দুর, কখনো মুসলমানের পালে হাওয়া দিতে লাগল। ডিভাইড অ্যান্ড রুলের এত নগ্ন ব্যবহার আগে কে কবে দেখেছে? সেই যে দুই সম্প্রদায় পরস্পরকে ঘৃণা করতে শুরু করল, তার আর শেষ হলো না। রাজনীতির জগতের এই বিভাজনে সাংস্কৃতিক জগৎটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সন্দেহ নেই, কিন্তু তারপরও সংস্কৃতি মানুষে-মানুষে সম্পর্কটি টিকিয়েও রেখেছিল। মানুষ ধর্মান্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথকে খারিজ করতে চেয়েছে, নজরুলকে আপন করে নিতে চেয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ও সবাক নজরুল মূলত দেশভাগের আগের মানুষ। তাঁরা কেউ ভারত, পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশের নয়। বৃহত্তর ভারতবর্ষেরই মানুষ তাঁরা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে বলতে হয়, রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষেরা বর্তমান বাংলাদেশের মানুষ, অন্যদিকে নজরুলের পূর্বপুরুষেরা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। অথচ ঘৃণা এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলকেও ধর্ম ধরে ভাগের চেষ্টা চলেছে। সুচিত্রা সেনও কি সেই ধর্মান্ধ রাজনীতির শিকার হলেন?

কথাটা উঠল পাবনার গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনের পৈতৃক বাড়িতে সুচিত্রা সেনের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপনের খবরটি পড়ার ফলে। সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা মহানায়িকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। হতাশ হয়ে তাঁরা বলেছেন, মহানায়িকার বাড়িটি এখনো সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা করা হলো না! প্রশাসন কি তাঁদের এই আবেদনের দিকে নজর দেবে? তারা কি মনটাকে সাংস্কৃতিকভাবে ঋদ্ধ করে পাবনাবাসীকে গর্ব করার মতো একটি ঘটনা উপহার দেবে?

পরিমাণগত পরিমাপই উন্নয়নের শ্রেষ্ঠ নির্ণায়ক নয়

অমানবিক বিশ্বরাজনীতি

অস্ত্র ব্যবসার উন্মাদনা বনাম ডুমস ডে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি ও উত্তরণের পথ

বিশ্বরাজনীতির উত্তাপ ও বাংলাদেশের কৃষি

ফুটপাতে উচ্ছেদ

রোষানলে আত্মহত্যা

গণভোট অবৈধ হলে গণভোটের রায় কীভাবে বৈধ

সংবিধান সংশোধন বনাম সংস্কার