অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নগদের ইউএসও (ইউএসও) মো. জসিম উদ্দীন (৩৩) এবং সুমন রায় (২৮)। আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার(মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
সিআইডি জানায়, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শাখার একটি দল ১২ জুলাই নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। প্রথমে নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউস থেকে জসিম উদ্দীনকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুলারামপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে সুমন রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সুমন একটি বিদেশি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটের অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাঁদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতেন। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করা হতো।
মামলার তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম ছাড়াও অন্যদের নামে নিবন্ধিত সিম সংগ্রহ করে চক্রের সদস্যদের সরবরাহ করতেন। এসব সিম অনলাইন জুয়ার সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হতো। তদন্তে তাঁদের জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনায় সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে।
এর আগে সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দেশের ভেতর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম শনাক্ত করে সিআইডি। এ ঘটনায় গত ১৭ মে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, এ মামলায় এর আগে টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন, অর্থ পাচার এবং এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।