ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুতেই থামছে না। আজ সোমবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে দুই শতাধিক রোগী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী এই তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৭ জন এবং চলতি বছর ৬৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৪ জন। এদের মধ্যে ঢাকায় ১৬৩ জন এবং বাইরে ৫১ জন। আগেরদিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ২৪২ জন। এদের মধ্যে ঢাকায় ১৮৫ জন এবং বাইরে ছিল ৫৭ জন। গতকালও দুজনের মৃত্যু হয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৭ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৭ হাজার ২১৫ জন। এ সময় মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট রোগী ভর্তি হয়েছে ১৭ হাজার ৫৭১ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৫১৯ জন। এ বছর মৃত্যু হয়েছে ৬৩ জনের। বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৯৮৯ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ৭৫৮ জন এবং বাইরে ভর্তি আছে ২৩১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৭ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৬ জন, বিজিবি হাসপাতালে ৪ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন ও সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে তিনজনসহ মোট ৫৩ জন। এই ৫৩ জন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যরা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকার ৬টি ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রস্তুত করে কিন্তু চারটি ছিল চিকিৎসার। শেষ পর্যন্ত কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যা হাসপাতালটিতে একদিন রোগী ভর্তি হলেও সেখানে নতুন আর কোনো রোগী ভর্তি হননি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই বছর আগষ্ট মাসে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৬৩৬ জন রোগী শনাক্ত ও ভর্তি হন। গত বছর আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিলেন মাত্র ৬০ জন। আর চলতি বছর আগস্টে ৭ হাজার ৬৯৮ জন রোগী ভর্তি হন। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ১৭৯ জনের। গত বছর সাতজনের এবং চলতি বছর ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।