মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ সোমবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কারণে মিয়ানমার সীমান্ত এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রায় সার্বক্ষণিক সংঘাত বা যুদ্ধ বিরাজ করছে। ওখানে আরও কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ আছে। আরএসইউ, আরসা, আরাকান আর্মিসহ আরও বিভিন্ন সংগঠন আছে। তাদের অভ্যন্তরীণ অনেক সময় অনেক সংঘর্ষ হয়। এসব সংঘাতের প্রভাব (স্পিলওভার) অনেক সময় বাংলাদেশের ভূখণ্ডেও এসে পড়ে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এসব কারণে সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান ও অস্থিতিশীল অবস্থা এবং অনেক সময় ওখান থেকে গোলাগুলির কারণে আমাদের নাগরিকেরা মৃত্যুবরণ করছে। সে জন্য এগুলো সব অ্যাড্রেস করার জন্য আমরা এখনো পুরোপুরি ফাইনাল সিদ্ধান্তে যাইনি। তবে আমাদের প্রস্তাব আছে যে, আমরা সেখানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে চাই ১০৯ কিলোমিটার।’
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভারতের সীমান্তের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই দুই সীমান্তকে একইভাবে দেখা যাবে না।
ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় মাইন শনাক্তে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও মাইন খুঁজে বের করার জন্য ল্যান্ডমাইন ডিটেকশনের জন্য যে যন্ত্রপাতি, ওগুলো আমরা সংগ্রহ করে ইতিমধ্যে বিজিবির কাছে দিয়েছি। বিজিবি সদস্যরা সেটা কাজ করছে, যাতে মাইন দুর্ঘটনা আর না হয়।’
ভারত থেকে ‘পুশ ইন’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এখন পর্যন্ত কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিতে দেয়নি। আমাদের বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এবং জনগণের সহায়তায় আমরা সফলভাবে এখন পর্যন্ত সেটা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল গভর্নমেন্ট নিউলি ইলেক্টেড হওয়ার পরে ওখানে রাজ্য মানে প্রদেশের যে নির্বাচিত সরকার, তাদের কিছু কিছু পলিটিক্যাল অ্যাজেন্ডার কারণে তারা এটা হয়তো প্রদর্শন করতে চেয়েছে। সেই বিষয়ে আমাদের বক্তব্য নাই। আমরা কথা বলব কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। আমরা বলেছি, যদি সে রকম কোনো নাগরিক থাকে, বাংলাদেশি নাগরিক সেখানে যেয়ে থাকে, তার তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিধিমোতাবেক দিতে হবে। আমরা ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন করব। যাচাই করে যদি সেটার সত্যতা পাওয়া যায়, সেটা আমরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত নিয়ে আসব। এ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে আমরা কাউকে অ্যালাউ করব না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি সত্যিই বাংলাদেশি নাগরিক হন, তাহলে ভারতকে নিয়ম অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তালিকা দিতে হবে। আমরা জাতীয়তা যাচাই করে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁদের ফিরিয়ে নেব। কিন্তু অন্য কোনো উপায়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
পুশ ইন প্রতিরোধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিতে বিজিবির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তে পুশ ইন প্রতিরোধে বীরত্বপূর্ণ ও সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রতিবছর নিয়মিতভাবে পদক দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিবেচনায় পদকের পাশাপাশি সনদ বা অন্যান্য বিশেষ স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে বিজিবির মহাপরিচালকের (ডিজি) সঙ্গে আলোচনা করব।’
অন্য এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশের ক্ষেত্রে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও খারাপ কাজের জন্য তিরস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা জনসম্পৃক্ত বাহিনী হিসেবে পুলিশের কার্যক্রম আরও জনবান্ধব করতে। বিজিবির ক্ষেত্রেও প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত স্বীকৃতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।