বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরা-বনশ্রীতে আহত ব্যক্তিদের ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলতে আওয়ামী লীগের লোকজন হাসপাতালের চিকিৎসকদের হুমকি দিয়েছিলেন বলে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন সাক্ষী রুহুল আমীন। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তাঁর জবানবন্দি নেওয়া হয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় রুহুল আমীন ষষ্ঠ সাক্ষী। এই মামলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও আরেক কর্মকর্তা মো. রাফাত-বিন-আলম মুন গ্রেপ্তার রয়েছেন। অপর দুই আসামি ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান পলাতক রয়েছেন।
রুহুল আমীন জবানবন্দিতে জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বেলা আড়াইটার দিকে রামপুরা থানার পাশে মেরাদিয়া কাঁচাবাজারে তিনি আন্দোলন দেখতে গিয়ে দেখেন, বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন ছাত্রদের ওপর গুলি করছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে কিছু লোক মারা গেছেন এবং কিছু লোককে আহত হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। ভয়ে তিনি বাসার দিকে রওনা হলে একটি গুলি তাঁর কোমরের নিচে লেগে সামনে দিয়ে বের হয়ে যায়। তিনি রাস্তায় পড়ে যান। কয়েকজন তাঁকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।
রুহুল আমীন জানান, ২০ জুলাই রাতে হাসপাতাল থেকে কিছু লোক তাঁকে জোর করে বের করে দেন। কারণ, সেদিন আওয়ামী লীগের লোকজন হাসপাতালের চিকিৎসকদের হুমকি দিয়েছিলেন, ‘তাদের গুলি করা হয়েছে, মরেনি; ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।’ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও তাঁকে দেওয়া হয়নি।
রুহুল আমীন জবানবন্দিতে আরও জানান, তিনি বাসায় ফেরার পর আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁর বাসায় গিয়ে বলেন, তিনি গুলি খেয়েছেন, তাই ওই এলাকায় থাকতে পারবেন না। পরে তিনি নিজ খরচে ফরাজী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে জানতে পারেন, বিজিবির রেদোয়ান ও রাফাত এবং পুলিশের রাশেদ ও ওসি মশিউর গুলি করেছেন।
রুহুল আমীন তাঁর শরীরের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তাঁর কোনো কাজ করার সক্ষমতা নেই। তাঁর দুই মেয়ে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে আসামিদের বিচার দাবি করেন।