রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’। নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত এই সম্মিলনটি কেবল সাংবাদিকদের একটি সমাবেশ নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার এক বৃহত্তর লড়াই হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ এক অস্থির রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তথাকথিত ‘মব ভায়োলেন্স’ বা সংঘবদ্ধ সহিংসতা কেবল রাজপথেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা সরাসরি আঘাত হেনেছে সংবাদপত্রের দপ্তর এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ওপর। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এ ধরনের সংগঠিত আক্রমণকে অনেকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন। আজকের সম্মিলনের মূল লক্ষ্য হলো—এই ভয়ের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা এক দ্বিমুখী সংকটে রয়েছে। একদিকে শারীরিক নিরাপত্তা ও অফিসের ওপর হামলার ভয়, অন্যদিকে তথ্যের সঠিকতা বজায় রেখে ‘সাহসী’ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়া। সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব যৌথভাবে এই বার্তা দিতে চায়, গণমাধ্যম কোনো চাপের কাছে মাথানত করবে না। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে একটি ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তি দিতে।
নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকদের সম্মিলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার জন্য একসঙ্গে দাঁড়ানোর এই আয়োজনে আমন্ত্রিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও কলাম লেখকেরা অংশগ্রহণ করবেন।
সম্মিলন থেকে সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হতে পারে, যাতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিশেষ করে ‘মব ভায়োলেন্স’-এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিটিই হবে আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।