সারা দেশে মোট ভোটকেন্দ্র থাকবে ৪২ হাজার ৭৬১
২,৪৪,৬৪৯টি ভোটকক্ষের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ৬,৫০০টি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্র ও কক্ষ আগেই মোটামুটি চূড়ান্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় ইসিও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য আনার পর ইসি ভোটকেন্দ্র না বাড়িয়ে সাড়ে ৬ হাজার ভোটকক্ষ ও ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০টির মতো গোপন কক্ষ (ব্যালটে ভোট দেওয়ার স্থান) বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইসি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ (বুথ) নির্ধারণ করে। ইসির এসব কেন্দ্র নির্ধারণের পর একই দিনে গণভোট করারও নির্দেশনা আসে। এরপর ইসি একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট করলে কেমন সময় লাগবে, ভোটকেন্দ্র ও কক্ষ বাড়াতে হবে কি না, এসব নিয়ে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করা হয় মহড়া (মক) ভোটের মাধ্যমে। গত ২৯ নভেম্বর মহড়া ভোটের আয়োজন করে ইসি। এরপর ১ ডিসেম্বর নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা করে কমিশন। এরপর ১৭ ডিসেম্বর মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ে চিঠি দেয় কমিশন। এতে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে নীতিমালা অনুসারে কোনো পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে শেষ করে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বলা হয়।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে কি না, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মক ভোটিংয়ে প্রাথমিকভাবে পাওয়া উপাত্ত থেকে ইসি মনে করছে, একটির জায়গায় দুটি গোপন কক্ষ করা হলে ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে না। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র বাড়বে না। ভোটকক্ষ ও গোপন কক্ষ বেড়েছে। তবে সংখ্যাটা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
ইসি সূত্র জানায়, কিছুদিন আগেপর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের আবেদন এসেছে। কমিশন থেকে এসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, এবার গড়ে তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র থাকবে। ভোট গ্রহণের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হবে বলে ভোট গ্রহণ শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়। অর্থাৎ শুরু ও শেষের সময় আধা ঘণ্টা করে বাড়ানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪২ হাজার ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ও ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৭২টি ভোটকক্ষ ছিল।