অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
সংশোধিত বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ সরকারের আমলে থার্ড টার্মিনাল চালু করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ বশিরউদ্দীন স্পষ্ট করে বলেন, ‘না, এ সরকারের সময়ে থার্ড টার্মিনাল চালু করতে পারব না।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে জাপানের ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে বৈঠক করেছি। দর-কষাকষি করেছি, আলোচনা করেছি। আমরা প্রাণান্ত চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা সম্ভবত সফল হয়নি।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘টার্মিনাল চালুর জন্য যে পদ্ধতিগত ও কারিগরি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সেগুলো সচল রাখার জন্য আমরা বর্তমানে কাজ করছি। পরবর্তী সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
সংবাদ সম্মেলনে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, নতুন দুটি অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিমানের টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রতারণা ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ হবে। এ ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে, যাতে অসাধু চক্র আর সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে না পারে।
উপদেষ্টা বলেন, বিমানের টিকিট বিক্রিতে কিছু অসাধু ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল, নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে তা ভেঙে যাবে। এর ফলে টিকিটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।
বিমানের ফ্লাইট ডাইভারশন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, তীব্র কুয়াশার কারণে যাতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পার্শ্ববর্তী দেশে ডাইভার্ট করতে না হয়, সে লক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ক্যাটাগরি থ্রিতে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬ কার্যকর হলে বিমান পরিবহন ও ট্রাভেল ব্যবসায় শৃঙ্খলা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে।
নাসরীন জাহান আরও বলেন, এসব অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিমানের টিকিটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভিবাসী কর্মী ও সাধারণ যাত্রীদের অধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন খাতে সুশাসন এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সহজ হবে।