প্রায় ৩০০ কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতিমধ্যে দুদকের কমিশন সভায় মামলাটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। এর আগে মহারাজের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটটি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলা তদন্তাধীন।
দুদকের উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম আজ বুধবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে শিগগিরই মামলাটি করা হবে। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সংশ্লিষ্টদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে কমিশন মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুদকের তথ্যমতে, সাবেক এমপি মহারাজের নিজের নামে ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুমের নামে ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির নামে ৬৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য মিলেছে, যার বৈধ উৎস সংশ্লিষ্টরা দেখাতে পারেননি।
এ ছাড়া মহারাজের ভাই মো. শামসুদ্দিনের নামে ২১ কোটি ৮৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা, মো. সালাউদ্দীনের নামে ২৭ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং মিরাজুল ইসলাম মিরাজের নামে ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। মিরাজের স্ত্রী মিসেস শামীমার নামেও ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৯ হাজার টাকার সম্পদের অসংগতি চিহ্নিত করেছে দুদক।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ, জমি ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রয় এবং ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হতে পারে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পদ জব্দ ও ক্রোকের উদ্যোগ নেয় দুদক। সেই ধারাবাহিকতায় মহারাজ ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ ও সম্পদ জব্দ ও ক্রোক করা হয়েছে।