ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় ভারতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেশে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ভারত থেকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ থেকে ৮ মার্চ রাতে হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী আলমগীরকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের ১৪ দিনের হেফাজতে নেওয়া হয়। ওই হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁদের ১২ দিনের কারা হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। আগামী ২ এপ্রিল তাঁদের আবার আদালতে হাজির করা হবে।
শরিফ ওসমান হাদিকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলি করে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় করা মামলার তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ ফয়সাল, আলমগীরসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। তাঁদের মধ্যে ১১ জন গ্রেপ্তারের পর কারাগারে রয়েছেন। পরে এই অভিযোগপত্রের ওপর বাদীর নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
সিআইডি তদন্ত শুরু করার পর আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনিও কারাগারে আছেন। ভারতে ফয়সাল ও আলমগীর ছাড়া তাঁদের পালাতে সহায়তাকারী আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।