সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।
কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, অধ্যাদেশ অনুয়ায়ী বিচারপতি নিয়োগে রাষ্ট্রপতির কার্যত কোনো ভূমিকা নেই। অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলে সরকারের প্রতিনিধিত্ব খুবই কম বলে কমিটি তার পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছে।
বাতিলের সুপারিশ করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের বিষয় বিশেষ কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, এটি বহাল থাকলে সরকারের সঙ্গে বিচার বিভাগের কাজের কোনো সমন্বয় থাকবে না। প্রধান বিচারপতি নিম্ন আদালতের বিচারকদের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অধিকারী হবেন। একজন ব্যক্তির একক নিয়ন্ত্রণ বিচারকদের ক্ষতির কারণ হতে পারে। ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অবশ্য আইনটির পর্যালোচনায় কিছু সংশোধনীসহ পাসের কথা বলা হয়।
এতে বলা হয়েছিল, বিচারকদের আর্থিক স্বাধীনতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ পাশ করা যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত সুপারিশে বাতিল করার সুপারিশ করা হয়।
বিদ্যমান অধ্যাদেশ বাতিল করে ভবিষ্যতে নতুন করে তোলার সুপারিশকৃত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, মানবাধিকার কমিশনকে সরকারের কোনো বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা হয়নি। এটা বড় ধরনের অসংগতি। গুমের মতো সংবেদনশীল অপরাধের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তাদের দায় সম্পৃক্ত রয়েছে। এই অধ্যাদেশের সঙ্গে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের সঙ্গে সংযোগ থাকায় এই সংশ্লিষ্টদের অধিকতর পরামর্শ প্রয়োজন।
গুমকে সংবেদনশীল অপরাধ উল্লেখ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের মতো গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের পর্যালোচনা একই ধরনের তথ্য উঠে আসে।
উল্লেখ্য, গণভোট অধ্যাদেশ বিষয়টি পর্যালোচনাকালে বিশেষ কমিটি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ ২০২৫ নিয়েও পর্যালোচনা করে। এতে বলা হয়, সাংবিধানিকভাবে অবৈধ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রণীত গণভোট অধ্যাদেশ একটি প্রশ্নবিদ্ধ অধ্যাদেশ। এই আদেশের মাধ্যমে সংসদের সার্বভৌম ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বারিত উল্লেখ করে বলা হয়, স্পষ্টত যে, এই আইন সংবিধানের মূল কাঠামোকে পরিবর্তন করে ফেলেছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষায় সংঘটিত অপরাধসমূহ বিচারযোগ্য করতে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধসমূহ) (সংশোধন) -এর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৯৮০ সালের আইনের কিছু সংশোধন করে এটি হালনাগাদ করা হচ্ছে।