চলতি বছর দেশে বজ্রপাতে অন্তত ৩২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। আজ মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান সচিবালয়ে এবারের দুর্যোগ প্রশমন দিবসের কর্মসূচি জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের মতো করে বজ্রপাত আশ্রয়কেন্দ্র করবে সরকার। সেই আশ্রয়কেন্দ্রে বজ্রপাত প্রতিরোধক যন্ত্র লাইটনিং অ্যারেস্টার বসানো হবে। বজ্রপাতের সতর্কবার্তা শোনার পর কৃষকেরা এই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারবেন।
বজ্রপাতের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা এই যন্ত্রে আছে জানিয়ে এনামুর বলেন, মেশিনটি ৪০ মিনিট আগে বজ্রপাত শনাক্ত করতে পারে এবং কোথায় হবে তা বলতে পারে। আমরা এই সতর্কতা দেওয়ার মেশিন বসাব। প্রাথমিকভাবে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা বিশেষ করে হাওর এলাকায় বসাব। অ্যাপের মাধ্যমে যাতে মানুষের মোবাইলে সতর্কবার্তা যেতে পারে সে জন্য অ্যাপ তৈরি করব।
তিনি বলেন, বজ্রপাত প্রবণ এলাকায় বজ্রপাতের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। এক ডেসিমেল জায়গায় একটি পাকা ঘর থাকবে। প্রতিটি ঘরে একটি করে লাইটিনিং অ্যারেস্টার দেওয়া হবে, যাতে সতর্কবাতা শোনার ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে মানুষ সেই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারে। বজ্রপাত না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবেন।
ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বজ্রপাত আশ্রয়কেন্দ্রে কৃষক, মৎস্যজীবীরা সকালের নাশতা করতে পারবেন, দুপুরে খেতে পারবেন। ঝড়-বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টির মধ্যে আশ্রয় নিতে পারবেন। কেউ চাইলে বিশ্রামও নিতে পারবেন। ৪৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।