গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ায় সংস্কার বাস্তবায়নে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দল। সেই সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোর জন্য নতুন বেঞ্চমার্ক স্থাপন করেছে বলে উল্লেখ ইইউ।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক মূল্যায়নে এসব কথা বলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভারস ইজাবস।
ইভারস ইজাবস বলেন, ২০০৮-এর পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য নতুন বেঞ্চমার্ক (মানদণ্ড) স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সত্যিকার অর্থে প্রতিযোগিতামূলক সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানায়। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক জনগণ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে।
আজ সংবাদ সম্মেলনে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন তাদের প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করে আরও উল্লেখ করেছে, নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বছরের শেষ নাগাদ প্রকাশিত হবে।
মিশনের প্রধান ইভারস ইজাবস বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে, সেটি বিবেচনায় সাংবিধানিক, বিচারিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নে অংশীজনদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই। সেই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে নতুন সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলি।’
তিনি আরও বলেন, ইইউ বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য কাজ করার জন্য উন্মুখ এবং গণতান্ত্রিক নীতি, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সরকারগুলোকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী গণভোটে ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন ভোটার; যা মোট ভোটের প্রায় ৬০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন; যা কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ৬৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন ভোটার; যা কাস্ট হওয়া ভোটের প্রায় ৩১ শতাংশ। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ভোটারদের ৬০ শতাংশের বেশি গণভোটে অংশ নিয়েছেন; তা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়েও ১ শতাংশ বেশি।