হোম > জাতীয়

আলোচনা ছাড়াই ২৮ মিনিটে পাস ‘ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ বিল’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে আজ বুধবার আলোচনা ছাড়াই পাস হয়েছে ‘ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ বিল’। বিলটি সংসদে উত্থাপন করার ২৮ মিনিট পর পাস করা হয়। বিলটি স্থায়ী কমিটিতে না পাঠানো, সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া, দ্রুততার সঙ্গে পাস করার সমালোচনা করেছে বিরোধী দল।

বিরোধী দল বলেছে, একই দিনে বিল উত্থাপন ও পাসের উদ্যোগ সংসদের জন্য খারাপ নজির। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলের সংশোধনী প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে। যৌক্তিক হলে গ্রহণ করা হবে।

বিলটির মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আইন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আইন রহিত ও হেফাজত করা হয়েছে। এসব আইনের অধীনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত করা হয়েছে।

সম্পূরক কার্যসূচি অনুযায়ী বিকেল ৪টার পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সাধারণত বিল উত্থাপনের পর সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। তবে বিলটি সরাসরি পাসেরও প্রস্তাব করতে পারেন মন্ত্রী। এ নিয়ে সংসদে ২৮ মিনিট বিতর্ক হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করতে গেলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। জামায়াতে ইসলামীর নাজিবুর রহমান বলেন, এই আইনের মাধ্যমে ছয়টি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানকে বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এটা কমিটিতে না দিয়ে সরাসরি পাস করার এত তাড়াহুড়ার কোনো যৌক্তিকতা তাঁরা দেখছেন না। তিনি বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর বিষয়টি সপ্তম সংসদ থেকে শুরু হয়েছে। যে বিলটি আনা হয়েছে, এটা কোনো নতুন আইন নয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে। যার ফলে ওভারল্যাপিং হচ্ছে ফাংশনে। এই বিভিন্ন কর্তৃপক্ষগুলো একই উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। সেগুলো শুধু মার্জার করা হচ্ছে একটি কর্তৃপক্ষের মধ্যে।’ তিনি বলেন, এটি সংসদে আরও আগে আনতে পারলে তাঁরা খুশি হতেন। কিন্তু অধিবেশনের শেষ দিন। বিলটির মধ্যে জটিল কোনো বিষয় থাকলে তিনি নিজেই এটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করতেন। তিনি আইনটি পাসে বিরোধী দলের সহযোগিতা চান।

তখন নাজিবুর রহমান বলেন, কোনো সময় না দিয়ে এভাবে তাড়াহুড়া করে বিল পাসের অনুমতি দিলে তিনি মনে করেন, আইন প্রণেতা হিসেবে তাঁদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং এটা বারবার হচ্ছে। নাজিবুর রহমানের আপত্তি নাকচ হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য উত্থাপন করেন।

তখন এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কয়েকটি ধারায় তাঁদের সংশোধনী আছে। সেটা কীভাবে দেবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি যেসব ধারাগুলোতে সংশোধনের কথা বলছেন, এখন বিধি মোতাবেক যেহেতু সবকিছু খণ্ডন করেছেন, তাঁরটাও খণ্ডন করে মৌখিকভাবে উত্থাপনের অনুমতি দিতে পারেন। তাঁরা নোট করবেন এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে যদি কোনো সংশোধনী গ্রহণ করার থাকে, তাহলে পরে সেটা গ্রহণ করবেন, যদি সেটা যুক্তিযুক্ত হয়।

এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা চান এই অধিবেশনের শেষ দিনটি গ্লোরিফাই হয়ে থাকুক। তিনি বলেন, একটি বিষয়কে তাড়াহুড়া করে অ্যাকোমোডেট করতে গিয়ে অনেক অধিকার এবং দায়িত্ব লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিলটি একই দিনে উত্থাপন ও পাসের উদ্যোগকে সংসদের জন্য খারাপ নজির হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, আইন বোধ হয় এভাবে প্রণয়ন হয় না। আইন বুঝেশুনে প্রণয়ন করতে হবে। ইতিহাসের দায়বদ্ধতা আছে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সদস্যরা যেসব ধারার মধ্যে সংশোধনী আনতে চান, সেটা নিয়ে এলে যৌক্তিক হলে তা গ্রহণ করা হবে। আগামী অধিবেশনেও সেটা হতে পারে।

তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা যৌক্তিকভাবে রক্ষা করবেন বলে প্রত্যাশা করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিলে যা আছে

পাস হওয়া বিলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এই কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে। একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্যের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। চেয়ারম্যান হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরকার নিয়োগ দেবে। কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হবে। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশে বা বিদেশে শাখা কার্যালয় ও লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা যাবে।

কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি হবেন প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। অর্থ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পররাষ্ট্র, ভূমি, শিল্প, বাণিজ্য এবং আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা বোর্ডের সদস্য হবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব এবং বেসরকারি খাতের চার প্রতিনিধি বোর্ডে থাকবেন। বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের দুজন নারী হতে হবে। কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বোর্ডের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন কর্তৃপক্ষ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, আর্থিক ও অ-আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাব অনুমোদন, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।

নবম পে স্কেল: বেতনের গেজেট আগস্টে

পৃষ্ঠপোষকতা না দিলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে: সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় একটি সড়কের নামকরণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় আসকের নিন্দা

৬ মাসে মব সহিংসতায় নিহত ১৩৩: এইচআরএসএস

কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ বিল পাস

স্থানীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত ২৭ আগস্ট

এবার সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট

১৫ বছরে রেলপথে দুর্ঘটনা ১৩৩৪টি: সংসদে মন্ত্রী রবিউল