রাজধানীর লালবাগ থানায় জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টার মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শিরীন শারমিনকে বেলা ২ টার দিকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। তাঁকে লালবাগ থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে নেওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা (ডিবি) পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন তাঁকে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শিরীন শারমিনের পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন ও জামিনের আবেদন দুটিই নামঞ্জুর করেন। তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, আজ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি বিশেষ দল রাজধানীর ধানমন্ডি ৮/এ এলাকার একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ডিবি কার্যালয়ে এনে তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই লালবাগ থানার আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে মিছিল করছিলেন ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম। এ সময় মিছিলবিরোধীরা গুলি করলে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। একটি গুলি আশরাফুলের বাম চোখে লাগে। এতে তাঁর বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
আশরাফুল চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৫ মে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে লালবাগ থানাকে নির্দেশ দেন। লালবাগ থানা একই বছরের ১৭ জুলাই হত্যাচেষ্টার মামলাটি রুজু করেন। এ মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, শিরীন শারমিন চৌধুরী, আনিসুল হকসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে যা বলা হয়
আবেদনে শিরীন শারমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে তথ্য জানায় ডিবি। আবেদনে বলা হয়, মামলার ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা ও ৩ নম্বর আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কুশীলব ছিলেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই মামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তাঁর নাম-ঠিকানা এবং মামলার তদন্ত সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য মামলা তদন্তে সহায়ক হবে মন্তব্য করে আবেদনে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার মূল রহস্য এবং এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।