বগুড়ার শেরপুরে এলপি গ্যাসের সাবডিপো বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার ধনকুণ্ডি এলাকায় প্রিমিয়ার এলপি গ্যাসের ডিপোতে এ বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ডিপোটি গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন এই সাবডিপো থেকে কোম্পানির বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড ‘টোটাল গ্যাস’ বোতলজাত করে রংপুর, রাজশাহী বিভাগসহ টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুর জেলায় সরবরাহ করা হতো।
জানতে চাইলে ডিপোর ফিলিং অপারেটর মাসুদ বিন রশিদ জানান, তিন দিন ধরে ডিপো বিক্রির গুঞ্জন চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলেও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। রমজান মাস শুরুর আগে হঠাৎ ডিপো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরেক অপারেটর সামিদুল ইসলাম ও লোড-আনলোড কর্মী সবুজ মণ্ডল জানান, ২০১৩ সাল থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ৪০ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বোতলজাত করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো।
বর্তমানে গ্যাস ফিলিং সাইটে ১৯ জন ও অফিসে ১০ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। ডিপো বন্ধ হয়ে গেলে ২৯টি পরিবার সরাসরি আর্থিক সংকটে পড়বে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁদের ভাষ্য, রমজানের সময় কর্মহীন হয়ে পড়লে অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে।
কর্মরত স্বাধীন হোসেনসহ কয়েকজন জানান, শুরু থেকেই তাঁরা এখানে কাজ করছেন। অনেকের বয়স বেড়ে গেছে; এই অবস্থায় নতুন করে অন্য কোথাও চাকরি পাওয়া কঠিন। ফলে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে ডিপোর ব্যবস্থাপক মাহফুজুল হক বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে সাবডিপোটি ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। আগে এখানে প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৩৫০ টন এলপি গ্যাস বিভিন্ন ওজনে বোতলজাত করে সরবরাহ করা হতো।
এখন থেকে ‘টোটাল গ্যাস’ ব্র্যান্ডের বোতলজাত ও সরবরাহ কার্যক্রম ওমেরা কোম্পানি পরিচালনা করবে। যাঁদের চাকরি থাকবে না, তাঁদের কোম্পানির বিধিমালা অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও তিনি জানান।
তবে শ্রমিকেরা দাবি করেছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত না করে ডিপো বন্ধের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না। তাঁরা দ্রুত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চান।