আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদের প্রশ্নে গণভোট। সেখানে দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ আর নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ। ‘হ্যাঁ’তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে একটি অসাধারণ অর্জন। এটি প্রত্যাশিতভাবে জাতির জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার এরই মধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করেছে। আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের জন্য দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য দেশবাসীর সম্মতি প্রয়োজন। এর জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
ভোটারদের গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘সনদে আপনার সম্মতি দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। গণভোটে আপনি ‘‘হ্যাঁ’’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ আর নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ।’
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে রাষ্ট্রের কী কী সংস্কার হবে, তা ভিডিওবার্তায় তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। সেগুলো হলো—গণভোটে ‘হ্যাঁ; ভোট মানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। সরকার ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে।
সংস্কারের বিষয়ে ভিডিওবার্তায় আরও বলা হয়েছে, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতিরা নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংসদে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। আপনার মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি পাবে। দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। সব ক্ষমতা একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না এবং এ রকম আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এর মধ্যে রয়েছে।’
ভোটারদের গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশামতো গড়ে তোলার জন্য ‘‘হ্যাঁ’’তে সিল দিন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে। ‘‘হ্যাঁ’’তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে।’