সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রীর দরবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ৩ আনসার সদস্য গ্রেপ্তার’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ওই সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ঘটনাটির ব্যাখ্যা দিয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বলছে, প্রতিবেদনে যাঁদের ‘আনসার সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা মূলত স্বেচ্ছাসেবী গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের (ভিডিপি) সদস্য। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অনুমোদিত জনবলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর দরবারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই ও নির্ধারিত অনুমোদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। শুধু যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত সদস্যদেরই সেখানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তি উক্ত দরবারে অংশগ্রহণের জন্য অনুমোদিত ছিলেন না। এমনকি ওই দিনের অন্য কোনো অনুষ্ঠানেও তাঁদের প্রবেশ বা অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং তাঁরা কোনো কর্মসূচিতেই অংশগ্রহণ করেননি।
এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাহিনীর সদস্যসহ অনুষ্ঠানসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিকেও সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠান শেষে তিন স্বেচ্ছাসেবী সদস্যের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত অনুসন্ধানে সন্দেহজনক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, দরবার অনুষ্ঠানে সরাসরি কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে নয়; বরং অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যারাকে অবস্থান করে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণ পরিবেশ বিঘ্নিত করার সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র, উসকানি এবং বাহিনীপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনানুযায়ী পরে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর দরবারে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের প্রতিনিধিরা যথাযথ নিয়ম-কানুন ও নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাহিনীর সদস্যদের যৌক্তিক দাবিদাওয়াও বাহিনীর প্রচলিত বিধিবিধান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্বশীল ও রাষ্ট্রনিষ্ঠ বাহিনী হিসেবে সর্বদা আইনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।