এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জঙ্গি হামলার তীব্র আশঙ্কা করছেন না, তবে উড়িয়েও দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের হুমকি নেই বলেও জানান পুলিশপ্রধান।
বাহারুল আলম বলেছেন, ‘আমি মনে করি জঙ্গি হামলার আশঙ্কাটা...যদি কেরানীগঞ্জের ঘটনা না ঘটত... এ মুহূর্তে আমি তীব্র আশঙ্কাবোধ করছি না। তবে উড়িয়েও দিচ্ছি না। হামলার ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’
আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইজিপি বাহারুল আলম।
এ সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচনে কোনো জঙ্গি হামলার আশঙ্কা আছে কি না।
এর জবাবে আইজিপি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধান আশঙ্কা ছিল প্রচার অভিযানের সময় ক্যাম্পেইনে যারা ইলেকশনবিরোধী, তারা মনে করে ওদের ভাষায় তথাকথিত ওয়েস্টার্ন ডেমোক্রেসি এটা তাদের মতবাদের সঙ্গে মেলে না। তাদের ধর্মভিত্তিক মনোনয়ন হবে। এগুলোর তারা বিরোধী, এদের এ রকম একটা প্ল্যান ছিল। গতকাল নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
বাহারুল আলম আশঙ্কার মধ্যে থেকেই বলেন, ‘এখন আশ্বস্ত হতে পারি, জঙ্গি হামলার আশঙ্কাটা এখন আর ওভাবে নেই।’
আইজিপি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র এবং থানা থেকে ব্যক্তিগত ১ হাজার অস্ত্র লুট হয়েছে। যেকোনো অস্ত্রই হুমকি। এর বাইরে বিভিন্নভাবে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করে। সে জন্য এসব মোকাবিলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কতগুলো অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি, তার সংখ্যা বেশি নয়। অনেকে হয়তো দেশে নেই, কিন্তু অস্ত্র লকারে তালা মেরে রেখে বিদেশে আছেন। তাঁদের বৈধ অস্ত্রগুলো হয়তো জমা পড়েনি। তবে তার সংখ্যা খুবই কম।
আইজিপি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করার লক্ষ্যে বৈধ অস্ত্রের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে যেন ভোট গ্রহণ হয়, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাহারুল আলম আরও বলেন, এবার নির্বাচনে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি প্রায় ৬ লাখ আনসার সদস্যসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন থাকবে।
নিরাপত্তাব্যবস্থা তিন ধরনের হবে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এবার নিরাপত্তার রক্ষার্থে প্রযুক্তির ব্যবহারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া পুলিশ সুপাররা তাঁদের সক্ষমতা অনুযায়ী ড্রোন ব্যবহার করবেন।
তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, ৩১৭টি সহিংসতায় ৬১৩ জন আহত হয়েছেন। নিহত হয়েছেন ৫ জন। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে। এর মধ্যে হাদি হত্যার ঘটনাকে রাজনৈতিক সহিংসতা বলেও উল্লেখ করেন আইজিপি।
ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘নির্বাচনে সারা দেশে ৮৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে আমরা বিবেচনা করেছি। ১৬ হাজারের মতো মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। যোগাযোগব্যবস্থা, কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আধিপত্য—এসব বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়েছে।’
নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য পুলিশের জন্য এটা বড় সুযোগ।