অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার আগে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের আগে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধান কেন অসাংবিধানিক নয়, তা তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রিটকারীর আইনজীবী ইশরাত হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে করা ফৌজদারি মামলায় আদালত অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এটি অন্য নাগরিকদের মতো নয়, যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ ছাড়া সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ফৌজদারি মামলার আসামি কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিনকে পোস্টিং দেওয়া থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এনডিসি এসএম রাহাতুল ইসলামকে বরিশালে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পোস্টিং দেওয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
আজ আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও ইশরাত হাসান।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট সুলতানা পারভীনসহ চারজনের পোস্টিং নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটকারীর আইনজীবীরা বলেন, ওই চারজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান। সে মামলায় তাঁরা এখনো জামিন নেননি। ফলে আইনের দৃষ্টিতে তাঁরা এখনো পলাতক। অথচ তাঁরা ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের বরখাস্ত না করে একজনকে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে এবং অন্য তিনজনকে পোস্টিংয়ের চেষ্টা চলছে, যা আইনবহির্ভূত।