ঢাকা: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের বাদ রাখতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি যে সুপারিশ করেছে, তা বিস্তারিত দেখে মত দেবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
সচিবালয়ে সোমবার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানানোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘খবরে দেখেছি।’ এরপর এ নিয়ে মন্তব্য চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সংসদীয় কমিটি কী বলেছে তা জানতে হবে।’ মাঠ প্রশাসনে দায়িত্ব থাকা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে পড়ে শোনান একজন সাংবাদিক। তখন তিনি বলেন, ‘এটা তো সামারি বললেন। মিটিংয়ে কী বলেছেন সেটা দেখতে হবে, আমাকে জানতে হবে। গার্ড অব অনার নিয়ে কেন বলেছেন জানি না। ধর্মীয় বিধান নিয়ে যদি বলত তাহলে বলা যেত, লেট আস সি।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনেক সময় কোর্টে কোনো পক্ষ হাইকোর্টের রুলিং দেখিয়ে বলেন, রুলিংয়ে এটা আছে, পড়ে শোনাতে বলার পর দেখা যায় ইম্লিগেশনটা উল্টো। এরপর কোরআন-হাদিসের কিছু বিষয় তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এসব বিষয় উল্টোভাবে বিশ্লেষণ করা যায় বলে উদাহরণসহ তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, হাদিসে যেসব রয়েছে অনেক সময় ইম্পিগেশন উল্টো হয়। রাষ্ট্র যে আদেশ দেবে সেটা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। কল্যাণকর যদি আদেশ দেয় সেটা মেনে চলতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেওয়ায় নারী কর্মকর্তাদের বাদ রাখতে সুপারিশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে থাকেন। কফিনে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অনেক স্থানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে নারী কর্মকর্তা থাকায় এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে সংসদীয় কমিটি।