সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০টিতে পুলিশের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি-সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। বৈঠকে এসব ক্যামেরার কার্যক্রমের একটি সরাসরি প্রদর্শনীও দেখানো হয়।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা র্যান্ডমভাবে নির্বাচিত পাঁচটি এলাকার বডি-ওর্ন ক্যামেরা বহনকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এর মধ্যে ছিল তেঁতুলিয়া, মাটিরাঙ্গা, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির মতো প্রত্যন্ত অঞ্চল। এসব স্থান আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না বলে জানান প্রেস সচিব।
এ ছাড়া ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ এখন পুরোপুরি চালু হয়েছে বলে জানানো হয়। অ্যাপটি কেবল নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন। কোনো ভোটকেন্দ্রে বা আশপাশে সহিংসতা বা গোলযোগ হলে অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে। এতে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
প্রেস সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য পাঠানো ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট গ্রহণ করা হয়েছে। পোস্টাল ভোটারদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ পুরুষ ও ৬ শতাংশ নারী।
বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকের বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকছেন প্রায় ৪০০ জন এবং দেশি পর্যবেক্ষক প্রায় ৫০০ জন। বিদেশি সাংবাদিকের সংখ্যা আনুমানিক ১২০ জন বলে জানান প্রেস সচিব।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, দুর্গাপূজার সময় এই অ্যাপ (নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ) ব্যবহৃত হয়েছিল এবং এ বছর ৩২ হাজার মণ্ডপ এই ব্যবস্থার আওতায় ছিল, যা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই।
বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগ, তথ্য বা সহায়তার জন্য ‘নির্বাচন বন্ধু ভোটার’ হটলাইন চালু করা হয়েছে। এই নম্বরে ফোন করে ভোটাররা অভিযোগ জানাতে বা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রেস সচিব জানান, ৮০ শতাংশ সিসিটিভি ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরা স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।